স্টাফ রিপোর্টার
ভেতরে পছন্দের প্রার্থীর পাশের বোতামে টিপ দিয়ে সবুজ বার্টনে চেপেছি। কোনো অসুবিধা হয় নি। কথাগুলো বলছিলেন দিরাই পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিরন্ময় দাস।
তিনি জানান, ভোটারদের লাইন একটু লম্বা হয়েছে। শীতের সময় হওয়ায় সবাই বেলা বাড়ার অর্থাৎ রোদ ওঠার পর ভোট কেন্দ্রে এসেছেন। তবে কোনো সমস্যা হয়নি। সুশৃঙ্খল ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন সকলে। কেন্দ্রে নারী ভোটার অপেক্ষাকৃত বেশি এসেছেন। অপেক্ষাকৃত রাজনৈতিক সচেতন দিরাই পৌরসভা নির্বাচন এবারই প্রথম ইভিএমএ হয়েছে। প্রথম ইভিএমএ ভোট দেবার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে হিরন্ময় দাস বললেন, মনে হয়েছে ঝামেলা ছাড়া খুব সহজেই ভোট দিতে পেরেছি।
দুপুর ১২ টায় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার পিন্টু দাস দিরাই সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে যাবার সময় এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিটি বুথেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের
বিদ্রোহী প্রার্থীদের এজেন্টের উপস্থিতি ছিল। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে প্রিসাইডিং অফিসার বুঝিয়ে দিয়েছেন। ইভিএম পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও সহজভাবেই ভোট পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানান এই ভোটার।
ইভিএমএ’এর মাধ্যমে ভোট প্রদানে অনেক ভোটার স্বস্তি প্রকাশ করলেও কিছু ভোটার বিড়ম্বনার কথাও বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, অনেকের আঙ্গুলের ছাপ মিলে নি। আঙ্গুলের দাগ না মিলায় এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার শাহজামান ও আজিজুল এই প্রতিবেদককে জানালেন, অনেক শ্রমজীবী ভোটারের আঙ্গুলের রেখা ঠিকঠাকভাবে ছিল না। এ কারণে ভোট দিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের।
সকাল ১০ টা থেকেই দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত প্রায় ১০ বছরে এই কেন্দ্রে এতো মহিলা ভোটারের উপস্থিতি দেখেন নি।
কয়েকজন নারী ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইভিএমএ ভোট দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছেন তারা। ভোটার আয়েশা বেগম বলেন, টিভি খুললেই দেখতাম খবরে দেখাচ্ছে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হচ্ছে। ছেলে মেয়েদের জিজ্ঞেস করতাম ইভিএম কী, তখন তারা বুজিয়ে বলতো। আজ ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিতে পেরে ভালই লাগছে।
নারী ভোটার শামসুন নাহার বলেন, ভোট দিতে এসে ছোট বেলার অনেক বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, সত্যি ভালো লাগছে।
নারী ভোটার সুলতানা খানম বলেন, দুটি কারণে ভোট দিতে এসেছি। প্রথমত ইভিএমে জীবনের প্রথম ভোট দিলাম আর দ্বিতীয়ত পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হলো।
প্রথম ধাপে দিরাই পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো সোমবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) একটানা ভোটগ্রহণ চলে। এই পৌরসভার ২১ হাজার ৩৭৯ জন ভোটার ১২ টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৮, কাউন্সিলর পদে ৩৯, সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন লড়ছেন।
মেয়র পদে দিরাই পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বিশ^জিৎ রায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মোশারফ মিয়া, দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কদ্দুছ মিয়ার ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হাফিজ লোকমান আহমদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অনন্ত মল্লিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিক মিয়া এবং রশিদ মিয়াও ভোটে লড়ছেন।
শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমরাও ছিলেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে।
গত ২২ নভেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পৌরসভায় ১ জন মেয়র, ৩ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও ৯ জন করে সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।