পুলক রাজ
ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পণ্যসমূহ তাদের নাগালের বাইরে। স্যানিটাইজার, মাস্ক কিনেছেন না অনেকে। এদিকে ভিড়-ভাট্টা তাদের নিত্যসঙ্গী। নেই মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার সুযোগ। পেশার প্রয়োজনেই ছুটতে হয় অবিরাম। আজ এখানে তো কাল ওখানে। সংক্রমণের পাশাপাশি করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ারও বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে আসেন। তাই তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শ্রমজীবী ও নি¤œ আয়ের মানুষদের সুরক্ষা ও বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
পাথর শ্রমিক আজিজুন নেসা বলেন, আমার একটা মেয়ে ও একটা ছেলে পাগল। সংসার আমাকেই চালাতে হয়। কয়েক দিন ধরে দেশে নাকি করোনা নামে একটা ভয়ংকর ভাইরাস এসেছে। আমি গরীব মানুষ আমার প্রতিদিন কাজ করতে হয় ভাতের জন্য, কাজ না করলে খাবার পাব কই? এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু যা রুজি করি তা দিয়ে হয় না।
ঠেলাগাড়ী চালক শুভ রঞ্জন বলেন, মানুষের কাছ থেকে শুনে আসছি গত কিছুদিন ধরে করোনা ভাইরাস দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার তো ইচ্ছে করলেই আমার মতো বিপদজনক অবস্থায় যারা কাজ করছে তাদের মাস্ক, হ্যান্ড ওয়াস, সাবান, দিতে পারে।
বালি শ্রমিক শ্রিমতী বিশ্বাস বলেন, করোনা ভাইরাসে মানুষ আক্রান্তের খবর শুনলে গা-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। ভাইরাস প্রতিরোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা প্রয়োজন।
ভ্যান চালক মো. আলম বলেন, দিন আনি দিন খাই আমার হাতে প্রায় সময় বাজার করার টাকাও থাকেনা। এর মধ্যে কি ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য মাস্ক, হাত ধুয়ার সাবান ক্রয় করবো।
রিকশা শ্রমিক কাজল দাস বলেন, রিকশা চালানো তো আর বন্ধ করে দিতে পারব না। আমার মতো রিকশাচালকদের নিরাপত্তা নাই। করোনা ভাইরাসের কথা মানুষের মুখ থেকে শুনে ভয় লাগছে।
দিনমজুর রুমন মিয়া বলেন, প্রতিদিন কাজের খোঁজে বাহির হতে হয়। ছেলে-মেয়ে-বউ নিয়া প্রায় সময় না খেয়ে থাকতে হয়। এসব কষ্ট বলে বুঝানো যাবে না। দিন মজুররা খেতে পাড়ে না এর মধ্যে ওইসব জিনিস কি ভাবে ক্রয় করবো।
পাথর শ্রমিক জামাল উদ্দিন বলেন, আমার ফুরুতাইন আমার দিকে ছাইয়া থাকে। বাফ বাড়িত আইলে দুই মুট ডাইল ভাতের আসায়। ময়লার মধ্যে দিনরাত থাকি। আমাদের মতো মানুষদের সহযোগীতা করা জরুরী।