ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নদীতে পানি বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে কৃষকের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। এরই মাঝে মধ্যনগর উপজেলার শালদিঘা হাওরে গোবরিয়া খাল নামক ফসলরক্ষা বাঁধে শনিবার ফাটল দেখা দেয়। ওই বাঁধ ঘেষে পানি থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কয়েকটি হাওরের কৃষক। বছরের পর বছর ধরে শালদিঘা হাওরসহ চিন্নি, হাসারানী ও মরিচাকুড়ি হাওরকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় এনে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় কৃষকেরা মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসলেও কৃষকদের সেই দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতি বছর গোবরিয়া খালে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এবারও সপ্তাহখানেক আগে মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গোবরিয়া খালের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
গোবরিয়া বাঁধ পানির তোড়ে ভেঙে শালদিঘা হাওরে পানি প্রবেশ করলে টগা, চিন্নি, হাসারানী ও মরিচাকুড়ি, আতলা, হলদি, শৈলছাপড়া, রুই—কাইল্যানী, কাইঞ্জা, কোদালিয়া, বাসাইটা হাওরসহ ছোট বড় অন্তত ১০/১২টি হাওরের ফসল ঝুঁকিতে পড়বে। মূলত নেত্রকোনার কংশ নদীর পানি যাত্রাবাড়ি ঢালা দিয়ে এবং সুমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা হয়ে মধ্যনগর বাজারের দক্ষিণ পূর্বপাশে উবদাখালীর মোহনায় মিলিত হয়ে শালদিঘা, মরিচাকুড়ি, গোরাডোবা, বোয়াল হাওর পানিতে নিমজ্জিত হয়। নদীর মোহনায় অবস্থিত শালদিঘা ও মরিচাকুড়ি হাওর পাউবোর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই দুটি হাওর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। এদিকে ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোবরিয়া খালের বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওইদিন দুপুর থেকে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে সেখানে কাজ করছে শ্রমিকেরা। এবার পাউবোর অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে ১৫৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হচ্ছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে।
বোয়ালা হাওরের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘হাওরে কোটি কোটি টাকার বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। তবে কয়েকটি বাঁধের জন্য প্রতিবছরই কেন আমরা সোনার ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবো? কিছুটা বরাদ্দ বাড়িয়ে একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই আমরা শঙ্কামুক্ত থাকি।’
ধর্মপাশা উপজেলার কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির কৃষক প্রতিনিধি মোবারক হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরই শালদিঘাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাঁধ পাউবোর অন্তভূর্ক্ত করার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কিন্তু তা অনুমোদন হয়না। ফলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ইউএনওর নির্দেশে গোবরিয়া খালের বাঁধ রক্ষনাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শুরু করেছি।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। এখনো আমাদের হাওরগুলো শতভাগ পাউবোর অন্তভূর্ক্ত হয়নি। কৃষি ও কৃষককে গুরুত্ব দিয়ে অন্তত আগামী বছর থেকে যেন এই উল্লেখিত হাওরের বাঁধগুলো পাউবোর আওতায় আনা হয় সেজন্য দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ বাঁধগুলো পাউবোর অ্যালাইনমেন্ট বহিভূর্ত। অন্য খাত থেকে এ বাঁধের কাজ হয়েছে। বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’