- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

বিন্দু তালুকদার
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগরের চামরদানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। গত ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনের দু’টি রুমে পাঠদান হচ্ছে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের। এই অবস্থায় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, নতুন ভবনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস, এলজিইডি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বারবার বলা হলেও কোন কাজ হচ্ছে না।
পরিত্যক্ত ভবনের তিনটি রুমের মধ্যে দুটি রুমের ছাদের ঢালাই ভেঙে রডের উপর টিন ও বোর্ড দিয়ে কোন রকমে চলছে পাঠদান। ভাঙা ছাদের নিচেই চলছে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষেরও কার্যক্রম।
জানা যায়, চামরদানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪০০ জন। কিন্তু বিদ্যালয়ের ভবন মাত্র দুটি। একটি ব্যবহার উপযোগি ও অন্যটি ব্যবহার অনুপযোগি। আগের পুরনো ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ব্যবহার উপযোগি ভবনের রুম মাত্র দুটি। পুরনো পরিত্যক্ত ভবনে রুম তিনটি। কিন্তু ভবন ও রুমের তুলনায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ায় গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে        
ছাত্রদের। ব্যবহার উপযোগি ভবনে মাত্র দুই রুম থাকায় ইচ্ছের বিরুদ্ধেই পরিত্যক্ত ভবনে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর পাঠদান হচ্ছে এবং শিক্ষকদের অফিস এমন কক্ষেই রয়েছে।  
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র সজীব আহমদ বলেন,‘আমরা ভাঙা ঘরের ভিতর ক্লাস করি। আমরার ডর করে কোন সময় ঘর ভাইঙা পইরা যায়। গত তিন বছর ধইয়া আমরা এইভাবেই ক্লাস করছি।’
চারমদানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু ভট্টাচার্য বলেন,‘বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪০০ জন। ভবন রয়েছে মাত্র দুটি। পুরনো ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নতুন কোন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভবনের দুটি রুমের ছাদের ঢালাই ভেঙে রডের উপর টিন দিয়ে কোনভাবে ক্লাস নিচ্ছি। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষটি ভাঙা ছাদের নিচেই রয়েছে। যে কোন সময় আমাদের মাথার উপর ভেঙে পড়তে পারে। নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. আলী বলেন,‘ব্যবহার উপযোগি ভবন না থাকায় পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ ভেঙে দুটি ক্লাস নেয়া হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস, এলজিইডি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বারবার বলা হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। পুরনো ভবন নিয়ে সবারই ভয় কোন সময় কি ঘটে যায়। ’
ধর্মপাশা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন বলেন,‘অনেক স্কুলেই শ্রেণীকক্ষ সংকট রয়েছে। পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। চারমদানী স্কুলের ঝুঁিকপূর্ণ ভবনের ছাদ ভেঙে টিন দিয়ে চালা তৈরির জন্য সরকারিভাবে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে এখন ক্লাস চলে। এখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি চমরদানী স্কুলের নতুন ভবন হবে। ভাঙা ছাদের নিচ থেকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ সরানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হবে। ’

  • [১]