স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়া। ছয় সন্তানের জনক তিনি। বাড়তি ইনকাম না থাকায় শুধুমাত্র সবজি বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোসহ ৮ সদস্যের পরিবারের সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করতে প্রতিনিয়তই তাকে হিমশিম খেতে হয়। সামান্য বসতভিটাটুকু ছাড়া নেই কোনো ফসলি জমিও। করোনাকালে সবজি ব্যবসায় তেমন সুবিধা করতে না পারায় স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে ইদ্রিস মিয়ার একমাত্র বসতঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পরেছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামে কেবল একটিমাত্র খড়ের ঘর। আর ভাঙ্গাচুরা এই খড়ের ঘরটিই একমাত্র আশ্রয়স্থল হতদরিদ্র ইদ্রিস মিয়া ও তার পরিবারের। গত রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের একাংশ বিধ্বস্ত হলে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। পরেরদিন প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া ঘরটি সাময়িক মেরামত করা হলেও এখনো চালের পচা খড় চুইয়ে ঘরের মেঝেতে পরছে বৃষ্টির পানি। ঘরের বেড়ার বেশিরভাগ অংশ ভাঙা। একপাশে বাঁশের কঞ্চিতে ঠিকা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছ ঘরে বেড়া। যেকোনো মুহূর্তে ঝড়ো বাতাসে বেড়াসহ পুরোঘর ধসে প্রাণহানির মতো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার দরুণ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে খড়ের ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন ইদ্রিস মিয়া।
আলাপকালে ইদ্রিস মিয়া হতাশ হয়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘টাকা এক হাতে রুজি করি, আরেক হাতে খরচ করি। ছয় সন্তানের মুখে খাবারই ভালোভাবে জুটেনা। দিনে আনি দিনে খাই। ঘর বানাতে অনেক টাকা লাগে। এখন অভাবের দিন। এতো টাকা পাব কই? ঝড় তুফানের দিনে পরিবার পরিজন নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গাও নাই। কপালে মৃত্যু থাকলে এখানেই মরব।’
প্রতিবেশি হোসেন মিয়া বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে রাতে ঘর ভেঙ্গে গেলে তৎক্ষণাৎ আমাদের বাড়িতে তারা আশ্রয় নেয়। ঘর সাময়িক মেরামত করা হলেও ঘরের অবস্থা একদম নড়বড়ে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে যেতে পারে। এই পরিবারের জন্য একটা ঘর অতি জরুরি দরকার।’
স্থানীয় বাসিন্দা আলীপুর সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহমুদুর রহমান রাসেল বলেন, এলাকার সবচেয়ে দরিদ্র পরিবার ইদ্রিস মিয়ার। সেদিন প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পেলাম তার ঘরে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী নাই। পরে আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাকে সহযোগিতা করেছি। সম্প্রতি তার একমাত্র বসতঘরটিও ভেঙ্গে গেছে। আমরা এলাকার যুবকরা স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেবকে জানিয়েছি। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে এক বান টিন দিয়ে সহায়তা করবেন বলে কথা দিয়েছেন। এই অসহায় পরিবারটির সহযোগিতায় প্রশাসন/জনপ্রতিনিধিসহ সুহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের দ্রুত এগিয়ে আসার আহবান জানাই।
এব্যাপারে সুুুুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশীদ বলেন, এই মুহূর্তে পরিষদের ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নাই। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই অসহায় পরিবারকে এক বান টিন দিয়ে সহায়তা করবো।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা প্রতিবেদককে বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের হাতে কোনো বরাদ্দ নেই। তারা আপাতত ঘরটি মেরামত করে থাকুক। আমরা ঘরের চাহিদা পাঠাব। ঘরের ছবিসহ তারা লিখিত আবেদন করলে পরবর্তীতে ঘরের কোনো ধরনের বরাদ্দ/সহায়তা আসলে আমরা এই পরিবারটিকে সহায়তা করব।