- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

টাঙ্গুয়ার হাওর, বেড়েছে পরিযায়ী পাখি

সু.খবর ডেস্ক
জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরকে বলা হয় পরিযায়ী পাখির স্বর্গরাজ্য। এবার সেখানে বেড়েছে পরিযায়ী পাখি। গত বছরের জানুয়ারিতে ৩৫ প্রজাতির ৫১ হাজার ৩৬৮টি পরিযায়ী পাখি ছিল। চলতি বছর আরও তিন প্রজাতির জলচর পরিযায়ী পাখি বেড়েছে। সংখ্যা সাত হাজার ৭০৬টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৭৪টিতে।
সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) ও বাংলাদেশ বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত পাখিশুমারিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবও এ কার্যক্রমের সহযোগী। এবার দেশের ৩২টি অঞ্চলে ২৮ জানুয়ারি থেকে পাখিশুমারি, পর্যবেক্ষণ, পাখির গায়ে স্যাটেলাইট রিং পরানো ও গবেষণা শুরু হয়। এ কার্যক্রম শেষ হবে ৮ ফেব্রুয়ারি। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জলচর পাখিশুমারি চলছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও টাঙ্গুয়ার হাওরের জলচর পাখিশুমারি হয় ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি।
আইইউসিএন বাংলাদেশের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দীপু গতকাল বুধবার বলেন, পরিযায়ী পাখির স্বাস্থ্যকর আবাস হিসেবে টাঙ্গুয়ার হাওর এই উপমহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। আইইউসিএন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানটি পর্যবেক্ষণ করছে। এবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৩৮ প্রজাতির ৫৯ হাজার ৭৪টি জলচর পরিযায়ী পাখি গণনা করা হয়েছে। সর্বাধিক সংখ্যায় রয়েছে গ্যাডওয়াল হাঁস। ১২ হাজার ৩৩০টি গ্যাডওয়াল হাঁস গণনা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য প্রজাতিগুলোর মধ্য ফলকেটেড হাঁস, বারের পোচার্ড, ব্ল্যাক লেজযুক্ত গডউইট দুই হাজার ৮০০টি, চকচকে ইবিস এক হাজার ৬০০টি এবং নর্দান লাপউইং রয়েছে ১৬টি।
এবারও পাখির গায়ে স্যাটেলাইট রিং পরানো হচ্ছে জানিয়ে সীমান্ত দীপু বলেন, গত বছর বেশ কিছু পাখিকে রিং পরানো হয়েছিল। সেগুলো এবার এসেছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের পুরো গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। টাঙ্গুয়ার হাওরে যেসব পরিযায়ী পাখি আসে, তার মধ্যে হাঁস প্রজাতির জলচর পাখিই প্রধান। বাংলাদেশে পরিযায়ী হাঁসের জন্য এ হাওর অন্যতম বড় অভয়ারণ্য। এসব পরিযায়ী পাখি মূলত তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাঁচতে চার-পাঁচটি দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের পথ উড়ে আমাদের এখানে আসে। ওরা আসতে শুরু করে নভেম্বরে। এপ্রিল পর্যন্ত থাকে। বছর ভেদে পাখির সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
জলচর পাখিশুমারির তথ্যমতে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পরিযায়ী পাখি ছিল ৪০ প্রজাতির দেড় লাখ। একইভাবে ২০১৮ সালে ৫৯ হাজার ৫৪২টি, ২০১৭ সালে ৯১ হাজার ২৩৬টি, ২০১৬ সালে ৪২ হাজার ৫৫৮টি এবং ২০১৫ সালে ৫২ হাজার ২৯৯টি পাখি গণনা করা হয়। ২০০২ সালে এ হাওরে একসঙ্গে ৯০ হাজার ৯০০টি মরচে রং ভুতি হাঁস দেখা গিয়েছিল। এশিয়া অঞ্চলে পাখিশুমারি শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। বাংলাদেশে এটি ১৯৮৮ সালে শুরু হয়।
বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল এ হাওরকে গুরুত্বপূর্ণ পাখি অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০০০ সালে সরকার টাঙ্গুয়ার হাওরকে রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। জনগণের মধ্যে আগের চেয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়া, পানি বেশি সময় থাকায় পাখির পর্যাপ্ত খাবার থাকা এবং করোনার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকায় এবার পাখির সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে এক সময় এই হাওরে পাখির সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। ২০০২ সালে এ হাওরে পাঁচ লাখের বেশি শুধু জলচর পরিযায়ী পাখি গণনা করা হয়েছিল। পাখি শিকার, পর্যটকের উৎপাত, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, দূষণ ও হাওর ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা না থাকায় দিনে দিনে পাখির সংখ্যা কমতে থাকে। মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়- এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ হলে আবার পাখির সংখ্যা বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।
সূত্র : সমকাল

  • [১]