- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

টিউশনি বন্ধ থাকায় বিপাকে শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার
নবীনগর এলাকায় বাসা বাড়া নিয়ে পড়াশুনা করতাম। বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ যোগাতে ২টা টিউশন করেছি। করোনার ভাইরাসের কারণে গত এপ্রিল মাস থেকে টিউশনি নেই। ফলে বাসা ভাড়া দিতে পারিনি। তাই মে মাসে বাসা ছেড়ে বাড়ি চলে এসেছি। এখন শহরে যে ফিরবো সে অবস্থা নেই। কথাগুলো বলছিলেন শিক্ষার্থী মো. জজ মিয়া। জজ মিয়ার মত শহরে মেস/বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা নি¤œ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা বৈশি^ক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন। পড়াশুনার খরচ চালানোর পাশাপাশি এসকল শিক্ষার্থী টিউশনির টাকায় পরিবারকেও আর্থিক সহযোগিতা করতেন। অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ করোনা কাটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ঘুড়ে দাঁড়ালেও এসব শিক্ষার্থীদের জীবন অনিশ্চিয়তা মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়িতে অবস্থানরত অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে ডিগ্রী, অর্নাস ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের এরকম সমস্যায় পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, পরিবার আমাদের থেকে এখন কাজ চায়। টিউশনি করে আগে গ্রামের বাড়িতেও কিছু টাকা পাঠানো যেত। এখন টাকা পাঠানো দূরে থাক পরিবারের উপর বোঝা হয়েছি। বাড়িতে থাকলে সবাই বেকার মনে করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না। শহরে থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি টিউশনি করে বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ নিজেই চালানো যায়। কিন্তু এখন সম্পূর্ণ পরিবারের উপর নির্ভরশীল।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ডিগ্রী ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী বিমান দাস রাজীব বলেন, আমার বাড়ি শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামে। মার্চ মাসে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। এখনও বাড়িতেই আছি। ৪ টা টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ চালাতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বারণ করে দিয়েছেন। এখন শহরে ফিরার কোনো অবস্থা নেই।
শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের মৌরাপুর গ্রামের বাসিন্দা গোপী কান্ত দাস বলেন, শহরের জামতলা এলাকায় বাসা মেস করে থাকি। আগে ৫ টি টিউশনি ছিলো। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কেউ পড়াতে চায় না। এখন ৩ টা টিউশনি করে টিকে আছি। ৩ টা চলে গেলে শহর ছাড়তে হবে।
সরকারি দিগেন্দ্র বর্মন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো.মশিউর রহমান বলেন, যেসব শিক্ষার্থী টিউশনি করে তাদের শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করে, পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন তাদের আর্থিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে। এই প্রতিকুল অবস্থা কাটানোর জন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে এগিয়ে আসা উচিত। তাদের জন্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই বাচাই পূর্বক তাদেরকে প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি ভাবে জরুরী কোন তহবিল হতে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কওমি মাদাসা ছাড়া অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়।

  • [১]