জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি গুদাম থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্য মূল্যের বিপুল পরিমাণের পণ্যের মোড়ক অবৈধভাবে পরিবর্তন করে কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা নোমান হোসেন (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আড়াই মাস পর বুধবার জগন্নাথপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
জগন্নাথপুর থানা পুলিশ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলীপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে নোমান হোসেনের গুদাম থেকে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে টিসিবির বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করে। এসময় গুদাম মালিক নোমান হোসেন পালিয়ে যায়। তাঁর বাড়ি জগন্নাথপুরের শেষ সীমান্তে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের লালাপুর গ্রামে। বাবার নাম হালিম উল্লা।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নোমান হোসেন আলীপুর বাজারে টিসিবির পণ্য মজুত করে অসৎ উদেশ্যে মোড়ক পরিবর্তন করে কালোবাজারে বিক্রির জন্য রেখেছিল। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসির আরাফাত ও জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী নেতৃত্বে একদল পুলিশ আলীপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে টিসিবির মোড়ক পরিবর্তনের প্রমাণ পান। গুদামের কর্মচারীর স্বীকারোক্তি অনুসারে টিসিবির ৪৯ কার্টন পুষ্টি ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল এবং ৫০ কেজি ওজনের ৭৩ বস্তা চিনি জব্দ করা হয।
নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ বলেন, স্থানীয় যুবলীগে নোমান হোসেনের কোনো পদ নেই। তবে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত আছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. শাহনেওয়াজের (মিলাদ গাজী) ঘণিষ্ঠজন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপ পরিদর্শক এসআই রাজিব রহমান জানান, গোপন সংবাদের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, টিসিবির পণ্য জব্দ করার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে এবং জব্দকৃত মালামাল নিলামে বিক্রি করা হয়। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।