স্টাফ রিপোর্টার
টিসিবি’র পণ্যের মূল্য বাজার দরের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম। তবুও সুনামগঞ্জ শহরে বিক্রির জন্য মালামাল তুলছেন না কোন ডিলার। জেলার ১৯ ডিলারের মধ্যে মাত্র ৩ জন ডিলার গত ১৭ মার্চ থেকে তিন উপজেলা সদরে বিক্রির জন্য মালামাল তুলেছেন। অন্যদিকে টিসিবি’র সিলেট অঞ্চলের অন্য ৪ জেলা শহরে (ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ) গত ১৭ মার্চ থেকে টিসিবির পণ্য ট্রাকে করে খোলা বাজারে বিক্রয় শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জে শনিবার পর্যন্ত টিসিবির পণ্য বিক্রয় হয়নি। একারণে কমদামে নিত্যপণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোক্তারা।
নিত্যপন্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে কম দামের দ্রব্যমূল্য সরবরাহ করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় শুরু হয়েছে সারাদেশে। বাজারে খোলা চিনির কেজি ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, মুসুর ডাল ৬৫ থেকে ১২০ টাকা, সোয়াবিন তেল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। অথচ. টিসিবি’র চিনি খুচরা মূল্যে ৫০ টাকা, মুসুর ডাল ৫০ টাকা, সোয়াবিল তেল ৮০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ টাকা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকায় টিসিবির মালামাল বিক্রয় করলে ডিলাররা প্রতি কেজিতে সাড়ে ৪ টাকা কমিশন পাবেন। এরপরও জেলার ১৬ জন ডিলার টিসিবির পণ্য তুলছেন না।
সুনামগঞ্জ শহরের আশপাশে দোয়ারাবাজারের আমবাড়ী’র দূর্গা ভা-ার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর বাজারের মেসার্স জীসপ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নোয়াখালী বাজারের মেসার্স সেবা টেলিকম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজারের মেসার্স হাবিবুর রহমানও ডিলার রয়েছেন। এঁরা মালামাল তুলে বিক্রয় করলে সুনামগঞ্জ শহরেও প্রভাব পড়বে। কিন্তু এরা এখনও (বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) মালামাল তুলেননি। এ অবস্থায় সরকারি নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। সুনামগঞ্জ শহরে তালিকাভুক্ত টিসিবি ডিলারও নেই।
শহরের একজন ব্যবসায়ী জানালেন, সিলেট বিভাগের টিসিবি পণ্যের অফিস সিলেট ও মৌলভীবাজারের মাঝামাঝি এলাকা শেরপুরে করা হয়েছে। শেরপুর সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। ওখান থেকে ট্রাকে মাল এনে সুনামগঞ্জে বিক্রয় করতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এ কারণে কেউ ডিলার হতে চায় না।
টিসিবি’র সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো. ইসমাইল মজুমদার বলেন,‘গত ১৭ মার্চ থেকে প্রতিদিন সিলেট অঞ্চলের অধীনের জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট শহরে ট্রাকে করে খোলা বাজারে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় হচ্ছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে ডিলার না থাকায় আমরা টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় কার্যকর করতে পারছি না। সুনামগঞ্জ শহরের আশপাশের ডিলারদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও মালামাল তোলার জন্য আনা যাচ্ছে না। ট্রাক দিয়ে শহরে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করাতেও কোন ডিলারকে রাজি করানো যাচ্ছে না।
তিনি জানান, একজন ডিলারকে প্রতিদিন ৬৫০ কেজি চিনি, ১০০ কেজি মুসুরডাল, ১০০০ লিটার সোয়াবিন ও একটন পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। তবে সরবরাহ না থাকায় আজ (রোববার) থেকে পেঁয়াজ দেওয়া যাবে না। ৩-৪ দিনে পরে আবার পেঁয়াজ পাওয়া যাবে।