- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

টেক্সটাইল ইন্সিটিটিউট স্থাপনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই

বাংলাদেশে কৃষি ও রেমিটেন্সের পরে অর্থনীতির সবচাইতে বড় খাতের নাম হলো গার্মেন্টস। গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের পরিশ্রমি ও উদ্যমী উদ্যোক্তাগোষ্ঠী আর সস্তা দামে শ্রম বিক্রি করা লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কষ্টে-ঘামে এই খাতটি গড়ে উঠেছে। দারিদ্র নিরসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গার্মেন্টস খাতের অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বাংলাদেশর প্রধান রফতানি পণ্য এখন গার্মেন্টস । ইউরোপের বিশাল মার্কেট ও বিশ্বনন্দিত ফ্যাশন হাউসগুলো বাংলাদেশি বাহারী পোশাকে সজ্জ্বিত থাকে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক সুনামের কারণ এই গার্মেন্টস খাত। এই খাতে দক্ষ জনগোষ্ঠীর চাহিদা ব্যাপক। দেশে টেক্সটাইল বিষয়ে এখন যে ডিগ্রি প্রদান করা হয়, চাহিদার জায়গা এর চাইতেও বেশি। প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আধা সরকারি পত্রের তথ্য মোতাবেক ২০২১ সালে টেক্সটাইল সেক্টরে দুই লাখ ৭০ হাজার দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান অবকাঠামো হতে ওই সময়ে বের হবে মাত্র ৮৭ হাজার ৯৫০ জন কর্মী। এখনকার হিসাবেই ২০২১ সাল নাগাদ ঘাটতি পড়বে প্রায় দুই লক্ষ দক্ষ কর্মীর। উপরন্তু এই সময়ের মধ্যে বিকশিত গার্মেন্টস সেক্টরের জনবলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এই বিশাল চাহিদার কথা বিবেচনা করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান সুনামগঞ্জ অঞ্চলে একটি টেক্সটাইল ইন্সিটিটিউট স্থাপনের জন্য বস্ত্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর এই সময়পোযোগী প্রস্তাবের অনুকূলে দ্রুতই সাড়া দিয়ে এর প্রযোজনীয়তা স্বীকার করেছে এবং গণপূর্ত ও পিডব্লিউডিকে প্রাক্কলন তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনকে এ জন্য পাঁচ একর ভূমি অধিগ্রহণের পত্র জারি করা হয়েছে। এইসব তথ্য হতে প্রতীয়মান হয় যে, আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে জেলাবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবেন।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে টেক্সটাইল ইন্সিটিটিউট স্থাপনের উপযুক্ততা বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, এই এলাকা দেশের অন্য এলাকার চাইতে অনুন্নত। এখানে বড় আকারের কোন প্রতিষ্ঠান নেই। তাই এখানে ইন্সিটিটিউট স্থাপিত হলে এলাকাবাসী এর সুফল ভোগ করে নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অক্ষরে অক্ষরে ঠিক। দেশের জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামের যে সুবিধাজনক স্তরে এখন আমরা অবস্থান করছি তাতে করে কর্মে প্রবেশ করার উপযোগী বিশাল সক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এখানে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে এদের বেশির ভাগের শ্রমশক্তিই  দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বিদেশ ও কৃষিক্ষেত্রে মৌসুমী শ্রম দেওয়ার পর একটি বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত জনশক্তি মূলত উৎপাদন পরিকাঠামোর মধ্যে ঢুকতে পারছে না। এখানে যদি জাতীয়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে তাহলে এই উদ্বৃত্ত জনশক্তি সহজেই  এর মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে। এই বিবেচনায় সুনামগঞ্জে গার্মেন্টস ইন্সিটিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি যথেষ্ট পরিমাণ সাধুবাদ পাওয়ার উপযুক্ত।
শুধু উপযুক্ত জনশক্তিই নয় এর মধ্য দিয়ে এখানে একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরির সম্ভাবনাও জাগ্রত হবে। সুনামগঞ্জে ভূমির অভাব নেই, অভাব নেই জনশক্তির, মূলধনেরও অভাব হবে না। বিদেশে যে পরিমাণ লোক রয়েছেন তাঁরা ভাল পরিবেশ পেলে বড় আকারের বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। প্রয়োজন শুধু উদ্যোক্তা ও জনশক্তিকে দক্ষ করা। তাহলে সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত থেকে দ্রুততর হবে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী পরিকল্পনামাফিক জেলার উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যেমনÑ মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি স্থাপন, সেগুলো সময় পেলে তিনি অবশ্যই করে যেতে পারবেন। সব উদ্যোগ যখন চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হবে তখন জেলাবাসীর মনে অবশ্যই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

  • [১]