- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ- ছাতক সিমেন্ট কারখানার অকেজো প্লান্ট আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি

বিজয় রায়, ছাতক
ছাতক সিমেন্ট কারখানার পুরাতন পাওয়ার প্লান্ট গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে কারখানার অভ্যন্তরস্থ এমপিআইসি স্টোরে অনেকটা গোপনীয়তা অবলম্বন করে দরপত্র ওপেন করে সর্বোচ্চ দরদাতার নাম ঘোষণা করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চট্টগ্রামের বিছমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২কোটি ৫১ লাখ টাকায় কাজটি বাগিয়ে নেয়।
এদিকে স্থানীয় একধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পুনঃ টেন্ডারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ কাজ বাগিয়ে নেয়া সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চক্রের বাধার মুখে তারা দরপত্রে অংশ নিতে পারেনি। ফলে অন্তত ১০ কোটি টাকা মূল্যের এসর ক্র্যাপস মালামাল মাত্র আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এ নিয়ে বুধবার বিকেলে বঞ্চিত ঠিকাদাররা কারখানা প্রধান ফটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বঞ্চিত ঠিকাদাররা। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে দু’দিন ধরে সিমেন্ট কারখানার অভ্যন্তরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে আসছে।  
একটি সূত্র জানায়, কারখানার ২.৪ ও ৪.৫ মেগাওয়াটের দু’টি অকেজো পাওয়ার প্লান্ট বিক্রয়ের নিমিত্তে কারখানা কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহবান করেন। দরপত্র প্রক্রিয়া অনুযায়ী দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। ৩১ অক্টোবর সোমবার সিডিউল ক্রয় ও ১ নভেম্বর বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় বেঁধে দেয়া ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৯ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের দরপত্র জমা দিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিছমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ কাজটি হাতিয়ে নেয়।
স্থানীয় ঠিাকাদার মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারি রিমাদ আহমদ রুবেল, মাহি আয়রনের সত্ত্ব¡াধিকারি দুলাল আহমদ খান, রেজা ইলেকট্রনিক্স, মেসার্স চিশতি এন্টারপ্রাইজসহ অন্তত ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারিরা অভিযোগ করে জানান, দরপত্র জমা দেয়ার জন্য যথা সময়ের অনেক আগেই তারা উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের গেটে আটকে রাখে দায়িত্বরত আনসাররা। সিন্ডিকেটের হয়ে কারখানার সিকিউরিটি-আনসাররা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে টেন্ডারে অংশ নিতে বাঁধা দিয়েছে।
কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেপাল কৃষ্ণ হাওলাদার কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দেয়া আবেদনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, টেন্ডারের ব্যাপারে একটি নিরীক্ষণ কমিটি রয়েছে। স্বচ্ছতার সাথে ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোককে কারখানা ফটকে আটকে রাখা বা টেন্ডারে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয় নি। স্থানীয় ৩ কাউন্সিলর, থানা-পুলিশ ও  বিজিবি’র উপস্থিতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি পক্ষ সিন্ডিকেট করে বিনা টেন্ডারে কাজটি নেয়ার চেষ্টা করেছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ তা হতে দেয়নি। পুনঃ টেন্ডারের ব্যাপারে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ বিসিআইসির এখতিয়ারভুক্ত। ’

  • [১]