- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ডলুরায় শুল্কবন্দরের জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি
ডলুরায় শুল্কবন্দরের জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যেই ডলুরায় শুল্কবন্দর করার উপযোগি ১৫ একর জমি কাস্টমস’এর কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধপত্র পাঠানো হবে বলে কাস্টমস অফিস সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলেও সীমান্তের ঐ পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী শুরু করা যায়নি।
এর মধ্যেই (২০০৮ সালে) সীমান্তের ওপারের সড়ক নির্মাণ এবং এপারে নৌ ও সড়ক পথের সুবিধা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদী পার হয়ে ১২ কিলোমিটার দূরেই ভারত সীমান্ত। সীমান্ত পার হলেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বালাট জেলার সীমান্ত। ওপারের সেভেন সিস্টারস’এর সঙ্গে বালাটের রয়েছে উন্নত সড়ক যোগাযোগ। এপারে মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী নদী চলতি সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীতে এসে মিলেছে।
ডলুরা থেকে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ের হালুয়ারঘাট পর্যন্ত সড়ক (ছোট- ছোট গাড়ী চলাচল উপযোগী) রয়েছে।
জানা গেছে, ভারতের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ডলুরা-বালাট শুল্কস্টেশন চালু করার জন্য অনুমোদনও দিয়ে রেখেছে।
৫ বছর আগেই ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রণালয়ের রাজস্ব শাখা’র উপ-সচিব এসএম আক্তার ভারতের সিলংয়ের কাস্টম কমিশনারকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেছেন, মেঘালয়ের বালাট স্থলবন্দর পুনরায় খোলে দিতে ভারত সরকার সম্মত। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ঐ চিঠিতে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের
ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ডলুরা এলাকায় মতবিনিময় করেছেন। সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘শুল্কস্টেশন স্থাপনের উপযোগী সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশকিছু কাজ হয়েছে। যেহেতেু দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্কস্টেশন চালুর বিষয়ে আন্তরিক তাই দ্রুত এখানে শুল্কস্টেশন চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
শুক্রবার বিকালে ছাতক কাস্টমস অফিসের সুপারিন্টেনডেন্ট খায়রুল এনাম এ প্রসঙ্গে বলেন,‘ডলুরায় শুল্কস্টেশন চালুর প্রাথমিক কাজ করার জন্য ওখানে একটি ঘরও আমরা ভাড়া নিয়েছি। ১৫ একর জমি চেয়ে ভ্যাট ও কাস্টমস’এর কমিশনার অফিস সিলেট থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে (আই আর ডি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই সপ্তায়েই জমি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। জমি হস্তান্তর হলে অফিস নির্মাণসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]