- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ডাক্তারের কাছে লাঞ্ছিত হলেন রোগীর স্বজন

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
চিকিৎসা সেবা চাওয়ায় এক রোগীর স্বজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ডাক্তারের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও’র দায়িত্বে থাকা ডা. সিফাত আরা সামরিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে ।
জানা যায়, শনিবার ভোর ৫টায় দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা (আজবপুর) গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ বীরপ্রতীক মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তাঁর বড় ছেলে মেজবাউল গণি সুমন। অজ্ঞান অবস্থায় সুমনকে চিকিৎসা দিতে তাৎক্ষণিকভাবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। এসময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কোনো ডাক্তার না পেয়ে রোগীকে হাসপাতালের আরএমওর দায়িত্বে থাকা ডা. সিফাত আরা সামরিনের কোয়ার্টারে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় ডাক্তার সিফাত আরা রোগী ও রোগীর স্বজনদেরকে তিরষ্কার করে বের করে দেন। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হাসান মাহমুদের কাছ থেকে সেবা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন বীরপ্রতীকের ছেলে মেজবাউল গনি সুমন।
রোগীর সাথে থাকা স্বজন সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ বীর প্রতীকের ভাগ্নী শাহানা আক্তার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, সামরিন ম্যাডামের বাসায় গিয়ে আমি উনাকে সালাম দিয়ে যখন বললাম, ‘হাসপাতাল ডাক্তার নাই, আমি বীরপ্রতীক আব্দুল মজিদের বড় ছেলেকে নিয়ে আসছি, বীরপ্রতীক মহোদয় মারা গেছেন, উনার ছেলের অবস্থাও খুব খারাপ, এই মুহুর্তে একটু ট্রিটমেন্টের দরকার।’ একথা বলার পর ডাক্তার সিফাত আরা সামরিন আমাকে বলেন, ‘বেরিয়ে যা, বেরিয়ে যা, এখানে কেন আসছিস। আমি বীরপ্রতীককে চিনি না’।
এসময় রুমে থাকা এক মহিলাকে বলছে, ‘ওরে ঘাড় ধইরা বের কইরা দরজা বন্ধ করে দে, অফিস টাইম এখন না, বেরিয়ে যা, বেরিয়ে যা আমার বাসা থেকে।’
বীরপ্রতীকে ছেলে রোগী মেজবাউল গণি বলেন, ‘আমার আব্বা মারা যাওয়ার পরে আমি অসুস্থ হয়ে যাই। আমার আত্মীয় স্বজনেরা আমাকে হসপাতালে নিয়া যান। হাসপাতালে পৌঁছার পর দেখি জরুরী বিভাগে কোন চিকিৎসক নেই। এরপর আমার স্বজনেরা ডা. সিফাত আরা সামরিনের বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু তিনি বাসায় থাকা একজন মহিলাকে বলেন, আমাদেরকে বের করে দেয়ার জন্য। ডাক্তার আমার ফুফাতো বোনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার অনুরোধ, রোগীরা যাতে কোনো ডাক্তারের কাছ থেকে এরকম কোনো ব্যবহার না পায়।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সিফাত আর সামরিন প্রতিবেদককে বলেন, আমি ৭ দিন ধরে ছুটিতে আছি। আমার বাসার হাউজ কিপারকে নির্দেশ দেওয়া আছে বাসায় যাতে কাউকে ঢুকতে না দেওয়া হয়। সকালে আমার বেডরুমে একজন ঢুকে পড়লে আমি আমার হাউজ কিপারকে একটু বকাঝকা করছি। রোগীর সাথে খারাপ ব্যবহার করিনি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা চাইতে গিয়ে যদি ডাক্তার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান লাঞ্চিত হবার খবর শুনতে হয় তাহলে আমরা কোথায় যাব। এ ধরণের আচরণের খবর শুনে মর্মাহত হয়েছি। আমরা বঙ্গবন্ধু ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলাম। এই দেশে আমাদের সন্তান অযথা লাঞ্চিত হবে তা হতে দেব না। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আবার মাঠে নামব।
সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

  • [১]