মোসাইদ রাহাত
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন ডা. তৌহিদ আহমেদ কল্লোল। যোগদানের পর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের এ প্রতিবেদককে বলেছেন, আমি সকলের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই। ডাক্তার-নার্সসহ সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিত রাখা হবে আমার প্রধান কাজ। সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের পোষাকও বাধ্যতামূলক করা হবে। যাতে সেবা গ্রহীতারা দেখলেই বুঝেন, তিনি হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার বা নার্স।
ডা. তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জে আসার আগেও এই হাসপাতালের একটি দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলাম। আমি জানি এখানকার পরিবেশ। সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানোর জন্য আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘÑএই তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছি। সুনামগঞ্জের চিকিৎসক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা তৈরি করে দেওয়া হবে আমার প্রধান কাজ। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম, চিকিৎসক বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করি শীঘ্রই ফল পাবো।
কাজের বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে সবাইকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা। নিয়মিত অফিস করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবো। এছাড়া সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের পোষাকও বাধ্যতামূলক করা হবে। সকলের পোষাক নির্ধারণ করা রয়েছে। তাই কে ডাক্তার, কে নার্স, আর কে কর্মচারী এবং কে কর্মকর্তা সবকিছুই চিহ্নিত করা থাকবে। ডাক্তার ও নার্সদের অবশ্যই বুকে তাদের নেমব্যাজ ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি ডাক্তার ও নার্সদের হাসপাতালের পাশে রাখার জন্য কোয়ার্টার সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। ডাক্তার পাশে থাকলে জরুরি সেবা দেওয়াও সহজ হবে। হাসপাতালের আশ পাশের অবস্থাও খুব খারাপ। ময়লা আবর্জনায় হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করবো।
হাসপাতালের দুর্নীতির নানা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি করে বাড়িঘর জমি জমা কারা কিনেছে সেটা দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন। আমি দেখবো কেউ আমার হাসপাতালের কোনো খাতে দুর্নীতি বা অনিয়ম করছে কি না। তার সম্পদ দেখার দায়িত্ব আমার নয়। হাসপাতালের খাত থেকে কয় টাকা নয়ছয় করেছে সেটা দেখবো আমি। সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য টাকা দিবে আর অন্যরা তা মেরে খাবে তা আমি সহ্য করবো না। সবকিছুরই জবাবদিহিতা বাড়ানো হবে। কেউ কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করলে সুনির্দিষ্টভাবে করতে হবে।
নতুন ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্রমান্বয়ে সবকিছু নতুন ভবনে নিয়ে যাবো। এখন আমরা দেখছি কোথাও কোনো সমস্যা আছে কি না। লিফট থেকে শুরু করে বিদ্যুতের সকল সুইসও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদ আহমেদ বলেন, আমি হারাম এক টাকাও খাবো না, খাওয়াতে পারব না। আমার বাবা একজন উপসচিব ছিলেন। সততা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। বাবার পথই অনুসরণ করি আমি।
তিনি বলেন, অনেক সময় অনেক ফাইলে স্বাক্ষর করতে হয়, যদি আমার মাধ্যমে কোনো ভুল কাগজে স্বাক্ষর হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই সাংবাদিকরা বলবেন যে এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো, কারণ সময়ের কারণে অনেক সময় অনেক কিছু অজানাও থেকে যায়, এজন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।