জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধুসূদন ধর অল্প দিনে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি উপজেলাবাসীর মন জয় করেছেন। একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করার পাশাপাশি গরিবের বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। করোনাকালে অসংখ্য মানুষের সংকটাপন্ন জীবনে আশার আলো হয়ে দিন রাত সার্বক্ষণিক হাজির হচ্ছেন মানবতার ফেরিওয়ালা জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধুসূদন ধর। করোনা সংক্রমণ শুরু হলে দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম বিঘিœত হলেও তিনি দিন রাত অসহায় খেটে খাওয়া দিনমজুর ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে নিরলসভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। বিনা ফিতে নিজ দপ্তরে রোগী দেখার পাশাপাশি মুঠোফোনে, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটআপ ও খুদে বার্তার মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সাধ্যমতো দিচ্ছেন ফ্রি ঔষধ। তরুণ এ চিকিৎসক ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর কাছে বিনে পয়সার মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। করোনাকালের আগেও তার ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর ঢল দেখা যেত। এরমধ্য কমপক্ষে ৮০ জন বিনা ফি’তে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন বাকি ২০ জন যার যার সাধ্যমতে ফি দিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, জগন্নাথপুর পৌর শহরের বাজার এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মিহির ধর ও গৃহিণী মা বিন্দু রানী ধর’র কনিষ্ঠ ছেলে মধুসূদন ধর ছোট বেলায় বাবাকে হারান। বড় ভাই মিন্টু ধর’র অনুপ্রেরণায় উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। ২০১১ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। ২০১৮ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বদলে দিতে শুরু করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেহারা। প্রথমে দুর্গন্ধের বদনাম ঘুচিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপহার দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান’র সহায়তায় নতুন সম্প্রসারিত ভবনে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করে শিশু ও গাইনী ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন। প্রবাসীদের অনুপ্রাণিত করে সরকারের পাশাপাশি জগন্নাথপুর উন্নয়ন সংস্থার প্রবাসীদের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি লাশ রাখার হিমঘর স্থাপন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনেন। সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথ নিয়মে পালনের অনুরোধ করেন। সবার কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালান। এলাকার লোকজন ও সরকারি বিভিন্ন মহলের সহায়তায় কমিউনিটি ক্লিনিকে ডেলিভারি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করেন। করোনা সংক্রমণে কিট সংকট দেখা দিলে তিনি নিজ উদ্যাগে কিট এনে করোনার নমুনা সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন। প্রবাসী ও বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করে স্বাস্থ্য উপকরণ সংগ্রহ করেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল আহাদ তাঁরই অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান আন্তরিক হলে একটি প্রতিষ্ঠান যে বদলে যেতে পারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার মধু সুধন ধর এর কার্যক্রম দেখলে বুঝা যায়। অল্পদিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বৃদ্ধি ও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে উপজেলাবাসীকে নানা সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে সুচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, করোনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান বৃদ্ধি করেছেন। একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে আমরা তাকে পেয়ে আনন্দিত। তার অনুপ্রেরণায় উপজেলা পরিষদ নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনসহ জরুরি স্বাস্থ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধুসূদন ধর বলেন, আমি বিশ্বাস করি মানবসেবাই পরম ধর্ম। তাই চেষ্টা করছি অসুস্থ রোগী ও স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর। করোনাকালে তিনটি ভাগে চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি কাজ করলেও আমি সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এসময় তিনি জগন্নাথপুরের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।