- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ডিঙাপুতা হাওর ছিল ভূমিকম্পের উৎপত্তি- বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা এলাকার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূ-কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তবে কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। স্থানীয় অভিজ্ঞজনেরা বলেছেন, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ডিঙ্গাপুতা হাওরের পশ্চিমপাড়ের মোহনগঞ্জের হাওর এলাকা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভূপৃষ্টের অনেক গভীর থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় ডাউকি ফল্টের উপরে অবস্থিত এলাকা, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলা অনেক বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি আর্থ অবজারভেটরি’র পরিচালক ড. হুমায়ুন আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১ টা ২০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে প্রায় ৪৫ সেকে- স্থায়ী ভূ-কম্পন হয়। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মেঘালয় এবং বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। নেত্রকোনা শহর থেকে ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে। সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ময়মনসিংহ শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। সিলেট শহর থেকে ৯৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ঢাকা থেকে ১১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের হাওর এলাকায় এর উৎপত্তিস্থল। তিনি জানান, মানচিত্র অনুযায়ি এটি সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণের যে হাওরটি কিশোরগঞ্জের সীমানায় গিয়ে মিলেছে, সেই বড় হাওরের পশ্চিমপাড়ে এর  ’ল।
ড. হুমায়ুন আক্তার বলেন,‘ভারতীয় সময় ১২ টা ৫০ মিনিট ৪৯ সেকে-ে এই ভূ-কম্পন হয়। মেঘালয়ে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। ভূপৃষ্ট থেকে ৪০ কিলোমিটার গভীরতায় এই ভূ-কম্পের উৎপত্তি হওয়ায় ভূ-পৃষ্টের উপরে কম অনুভূত হয়েছে এবং সীমিত এলাকায় অনুভূত হয়েছে।’
ড.হুমায়ুন বলেন,‘ভূমিকম্প যে মাত্রায় হয়েছে এটি ভূ-পৃষ্টের অধিক গভীরে হওয়ায় সুনামগঞ্জ- নেত্রকোনা এলাকা রক্ষা পেয়েছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ এলাকায় এ ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা বেশি। কারণ সুনামগঞ্জ নরম ও পলিমাটি অঞ্চল হিসাবে পরীক্ষিত। অন্যদিকে, নেত্রকোনায় লালমাটি বেশি।’
ড. হুমায়ুন বলেন,‘সুনামগঞ্জ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যেই আছে। সুনামগঞ্জ ভারতের শিলং মালভূমির দক্ষিণ পাদদেশে ডাউকি ফল্টের উপর অবস্থিত। ডাউকি ফল্টে ইতিপূর্বে ছোট বড় অনেক ভূমিকম্প হয়েছে। ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূ-কম্পনে ঐ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। একসময় ব্রহ্মপুত্র ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে ছিল। ঐ ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র বর্তমান যমুনার দিকে প্রবাহিত হয়েছে’।  
এদিকে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এবং এর দূরত্ব রাজধানীর আগারগাঁওয়ের উত্তর ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ১৫৬ কিলোমিটার দূরে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন,‘বুধবার ১ টা ২০ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬ মাত্রায় ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল মোহনগঞ্জ’র হাওর এলাকায়।’ তিনি জানান, ভূমিকম্পটি হাওর এলাকায় হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। না হয় যে মাত্রায় ভূমিকম্প হয়েছে আরো বেশি ক্ষতি হওয়ার আশংকা ছিল’।
ধর্মপাশার কৃষক নেতা কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন,‘সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় ঝাকুনি আমরা অনুভব করেছি। পরে আমরা সংবাদ মাধ্যম থেকে জেনেছি এর উৎপত্তিস্থল আমাদের এলাকায়। আমাদের ধারণা এটি ডিঙ্গাপুতা হাওরের পশ্চিমপাড়ে হয়েছে। এই হাওরটি অনেক বড়। হাওরের উত্তর-পূর্ব দিক এসে লেগেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা ও জামালগঞ্জে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলি এবং পশ্চিমপাড়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ি হাওরের পশ্চিমপাড়ে হলে এটি মোহনগঞ্জের সীমানায়ই হয়তো উৎপত্তি হয়েছে। যেহেতু মোহনগঞ্জের পাশেই আমরা সেকারণেই আমরা বেশি অনুভব করেছি’। একই মন্তব্য করলেন, ধর্মপাশার চামরদানী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না।

  • [১]