- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ডিঙি নৌকাই ভরসা…

জামালগঞ্জ সংবাদদাতা
যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের পিয়াইন নদীর উপর হয়নি সেতু। ছোট ডিঙি নৌকায় নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যান মানুষজন। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয় না। উপজেলার ভরতপুর, চাঁনপুর, খলা চাঁনপুর, আক্তাপাড়া, হরিহরপুর, গোপালপুরসহ ৭ গ্রামের মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে নদী পার হতে হয়। এই ঘাট থেকে সাচনা বাজারের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।
নদী পারের শিক্ষার্থী চৈতা রানী দাস, প্রলয় শীল, পূজা রানী দাস, তিতাস শীল বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বেড়ে গেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা ডুবে বই-খাতা ভিজে যায়। তাই বৃষ্টির দিনে অনেক ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসতে চায় না।
ঘাটের মাঝি আমিন মিয়া বলেন, এই ঘাটে আমি ২৫ বছর ধরে নৌকা বাইতাছি। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রছাত্রীরা যখন এক সাথে নৌকায় উঠে তখন ভয় হয়, কি জানি কখন নৌকা ডুবে যায়। তাই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমি এইখানে একটি সেতু দাবি করছি।
ভরতপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আওয়ামী লীগ নেতা নিশেন্দু কুমার রায় জানান, ২০০০ সালে এই নদীতে সেতুর টেন্ডার হয়। তবে সরকার পরিবর্তন হলে কোন অদৃশ্য কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে মাননীয় সংসদ সদস্য এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সয়েল টেস্টসহ যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে টেন্ডার হওয়ার কথা শুনেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক জানান, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন উনার বরাদ্দ তহবিল থেকে ৩ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সে মোতাবেক ভরতপুর-কুকড়াপশী পিয়াইন নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট টপ ও সার্ভে করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে সেতুটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে।

  • [১]