- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ডিজি আজাদের পদত্যাগ কি সব সত্য সামনে আনবে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের নাটকীয় পদত্যাগের বিষয়টি এখন হট অব দ্য কান্ট্রি। অভিযোগের দায় নিয়ে পদ ছেড়ে দেয়ার নজিরবিহীন দেশে আজাদের এই পশ্চাদপসরণকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করছেন। পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মধ্যে সামান্য সহানুভূতি অর্জন করলেন। আবুল কালাম আজাদ যে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন (কারসিনোমাক্রান্ত) সেটিও সামনে এসেছে এবং একজন অসুস্থ মানুষ তা তিনি যতই খারাপ হোন, সংবেদনশীল বাঙালি মনমানসিকতায় তিনি কিছুটা সহনাভূতি অর্জন করেন। আজাদ সেই সহনাভূতি পেয়েছেন। সুতরাং এই পদত্যাগটির মাধ্যমে অনেক অপকর্মের মধ্যেও তিনি কিছুটা গণসহনাভূতি অর্জন করেছেন। কিন্তু একটি পদত্যাগ আবুল কালাম আজাদের দুস্কৃতিকে আড়াল করতে পারে কিনা অথবা আদৌ তিনি কথিত এইসব অভিযোগের জন্য দায়ী কিনা তা প্রকাশ করতে সক্ষম হবে নাকি তাই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের শক্তিশালী আমলাতন্ত্রের দাপটে সাধারণত বড় আমলাদের দুস্কৃতি ঢাকা পড়ে যায়। আজাদও ওই ধরনের রক্ষাকবচ পেয়ে যান কিনা সেটিও জনআগ্রহের আরেক দিক। সামনের দিনগুলোতে বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।
রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড ১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসাবে সরকারি অনুমোদন দানের জন্য আজাদ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপকে সামনে এনেছিলেন। পরে জানা যায় এই উর্ধতন কর্তৃপক্ষ হলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব যিনি এখন আরও বড় জায়গায় কর্মরত রয়েছেন। এই উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে সামনে আনাটাই আজাদের কপাল পুড়ার কারণ কিনা তাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বটে। বাংলাদেশে উর্ধতন কর্তৃপক্ষরা হরদমই মৌখিকভাবে নিম্নপদস্তদের নানা নির্দেশনা দেন এবং সেই অলিখিত নির্দেশনা পালন এক ধরনের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আজাদ কিংবা আর কোনো আমলাই এই রেওয়াজের বাইরে নন। আজাদের ব্যতিক্রমটা এই, গুরুতর সমালোচনার মুখে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অলিখিত হস্তক্ষেপের বিষয়টি ফাঁস করে দিয়েছেন। এই ধরনের ধৃষ্টতা আমলাতন্ত্র সহ্য করে না। সুতরাং আজাদ সাপের লেজে পা দিয়ে সেই সর্পদংশনে আক্রান্ত হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কিনা তাও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রিজেন্ট অপকা-ে একা আজাদ জড়িত ছিলেন না। একক কোনো ব্যক্তির পক্ষে বড় দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। এখানে ছোট বড় অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকে। আমরা দেখলাম রিজেন্টকা-ে কর্তৃপক্ষীয় জায়গায় এখন পর্যন্ত কেবল মহাপরিচালক আজাদই বলি হলেন। আর বাকিরা কই? তিনি যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কথা টানলেন তারই বা কী হল? রিজেন্টের সাথে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
আজাদের পদত্যাগ দুটি ঘটনার জন্ম দিতে পারে। এক, নীলকণ্ঠ হয়ে সমস্ত দায়ভার নিজে গ্রহণ করে অন্যদের আড়ালে রাখতে বাধ্য হতে পারেন। দুই, পদত্যাগের পর তিনি একজন নাগরিক হিসাবে সব সত্য সামনে আনতে পারেন। তাতে অন্তরালের শক্তিগুলোর স্বরূপ উন্মোচিত হবে। জনগণ সর্বাবস্থায় পুরো সত্য জানতে চায়। আংশিক সত্য হলো আংশিক মিথ্যার সংমিশ্রণ। এতে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়। ক্ষমতাধর দোষীদের রেহাই দেয়া যায়। আজাদের ব্যতিক্রমী পদত্যাগ অন্তত পুরো সত্য সামনে আনুক এই কামনা এখন দেশবাসীর।
করোনার আগে পরে স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেটেড দুর্নীতি একটি জাতীয় আলোচনার বিষয়। সিন্ডিকেটকে এখানে লালন পালন করা হয়। এখন সময় এসেছে এই দুর্নীতির মহাবিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করার। সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা দেখানোর ব্যাপারে স্থিরপ্রতিজ্ঞ। সুতরাং এই সময়ে মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পদত্যাগ করে যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তেমনি সরকারের দুর্নীতি উদঘাটনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সেই সিন্ডিকেট ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চেহারা জাতির সামনে হাজির করে শাস্তি নিশ্চিত করুন এই সকলের কামনা। নতুবা আজাদের পদত্যাগটি কেবলমাত্র একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবেই বুদবুদ হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাবে।

  • [১]