স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অবস্থিত ধোপাজান চলতি নদী। এই নদীতে সারাবছর কয়েক হাজার মানুষ বালু-পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলনের কারণে শ্রমিকেরা প্রায় বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে চলছে অবৈধ ড্রেজার-বোমা। ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে চলতি নদীর বুক। এই অবৈধ মেশিন বন্ধের দাবি বালু-পাথর শ্রমিকদের।
বালু-পাথর উত্তোলনকারী একাধিক শ্রমিক জানান, রাতের বেলায় শতাধিক অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে নদীতে পাথর উত্তোলন করে আসছে একটি ব্যবসায়ী চক্র। এই পাথর স্টিলবডি নৌকা করে রাতের বেলায় চলতি নদী দিয়েই সুরমায় নামছে। এসব অবৈধ মেশিন ব্যবহার ও স্টিলবডি দিয়ে পাথর নামানো নিয়ন্ত্রণ করছে একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র।
স্থানীয়রা জানান, চলতি নদী থেকে হাতে পাথর উত্তোলন করে হাজারো শ্রমিকের জীবন জীবীকা চলছে। কিন্তু প্রতিরাতে নদীতে চলছে অবৈধ ড্রেজার-বোমা মেশিনের তা-ব। হাতের তোলা ও মেশিনে তোলা পাথর চলতি নদীর মুখে ও সদরগড় এলাকায় নদীরপাড়ে স্তুপ করেও বিক্রি করা হচ্ছে ।
ডলুরা গ্রামের পাথর শ্রমিক শিমুল মিয়া ও রজব আলী জানান, তারা প্রতিদিন চলতি নদীতে হাতে পাথর তোলে উপার্জন করেন ৬-৭ শ’ টাকা। এতেই চলে তাদের জীবন জীবীকা। রাতের বেলায় ড্রেজার-বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন হয় কি না জানতে চাইলে, জবাব এড়িয়ে চলে যান তিনি।
সোনা মিয়া নামের এক শ্রমিক জানান, অবৈধ ড্রেজার-বোমা মেশিন বন্ধে গুরুত্বসহকারে প্রশাসন ভূমিকা না নিলে চলতি নদীতে হাতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাবে। নদীর বিভিন্ন অংশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্তে পড়ে শ্রমিকদের মৃত্যুও হতে পারে। শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিম ডলুরা গ্রামের একাধিক শ্রমিক জানান, রাতের বেলায় ড্রেজার-বোমা দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। এসব অবৈধ মেশিন পরিচালনায় সার্বক্ষণিক নদীতে একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ দল আছে। এই দলের সদস্যরা সবকিছু সামাল দিয়ে নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় ড্রেজার বন্ধ করতে আসা ব্যক্তিদের তারা হাসিমুখে বিদায় করতে পারেন। তাদের নৌকাও চলতি নদীর মুখে আটকা পড়ে না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথাও বলতে পারে না।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি একেএম আবু নাসার বলেন, চলতি নদীতে দিনে ও রাতে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালনা বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন দিয়েছি। এভাবে পাথর বেচাকেনা করাও অবৈধ। সরকারী রাজস্বের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবকিছু জেনেও এই অবৈধ কর্মকা- বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোকশেদ আলী বলেন, আমার এলাকার হাজারো শ্রমিক এই চলতি নদীতে পাথর উত্তোলন করে জীবীকা নির্বাহ করেন। ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে নদীতে পাথর উত্তোলন করলে শ্রমিকেরা হাতে তোলতে পারবে না। নদীর বুক ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে অবৈধ মেশিনের তা-বে। এটা বন্ধ করা উচিত।