- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গাছের চারা নষ্টের আশংকা

আকরাম উদ্দিন
খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে কর্মক্ষম ও দক্ষ জনশক্তি সৃজনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)। এটি জনগণের পুষ্টিস্তর উন্নয়ন এবং খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জনগণের পুষ্টিস্তর উন্নয়নে অবদান রাখবে। এই কার্যালয় সিলেট বিভাগে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে। বিশাল এই প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শত প্রজাতির গাছের চারা জমে থাকা পানিতে নষ্ট হবার কথা জানালেন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে গড়ে উঠা সারা দেশে আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকায় একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন।
বারটান আঞ্চলিক কার্যালয়ের দুইটি ভবন নির্মাণ হয়েছে। একটি প্রশিক্ষণ ও ডরমেটরি ভবন এবং অপরটি প্রশাসনিক ভবন। বারটান কার্যালয়ের ভেতরে প্রশস্ত ক্যাম্পাস রয়েছে। ক্যাম্পাসের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফল গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। আগামী ১ বছরে দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস হিসাবে গড়ে উঠবে বলে জানান সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন।
সাদ্দাম হোসেন জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বারটান ক্যাম্পাসের দুই দিকে ড্রেন। কিন্তু ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের গতি রোধ করছে সুনামগঞ্জ-সিলেট যাতায়াতের মুল সড়ক। এই সড়কের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পাসে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে শত প্রজাতি গাছের চারা নষ্ট হয়ে যাবে এমন আশংকার কথা জানালেন তিনি। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ দ্বারের সামনে এবং গেইটের দুই পাশে এই এলাকার ময়লা আবর্জনা ফেলে দেয়া হচ্ছে। এতে নোংরা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের।
সিলেট বিভাগের কৃষি অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক, কৃষাণী, শিক্ষক, ইমাম, মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন এই প্রতিষ্ঠানে খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি বিষয়ে এক দিন অথবা তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। ২০১৫ সালে শুরু হয়েছে এই ভবনের নির্মাণ কাজ। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ভবনের নির্মাণ কাজ করেছে সুনামগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজসহ আরও দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
বারটান ক্যাম্পাসের পাশের মহল্লার বাসিন্দা সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমদ নুর বলেন, নতুন বাসস্টেশন থেকে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে। কিছুদিনের মধ্যে আমরা বারটান ক্যাম্পাসের পাশে ড্রেনেজের কাজ করব। তিনি বলেন, আপাতত স্থানীয়রা ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। বারটানের ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে দেখবো আমরা।
সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) আঞ্চলিক কার্যালয় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
বারটানের আঞ্চলিক কার্যালয় সুনামগঞ্জের এসএসও ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জনগণের খাদ্য পুষ্টি স্তরের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের বারটান আঞ্চলিক অফিস সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস এখাকার মানুষের খুবই কম। এতে শরীরে লুক্কায়িত ক্ষুধা থাকে। এটা মুলত: অপুষ্টির কারণ। পুষ্টির মান নির্ণয় করে খাবার গ্রহণ করলে, বাইরের খাবার পরিহার করা সম্ভব। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি আমরা।

  • [১]