- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ঢাকাস্থ সুনামগঞ্জ সমিতি সত্যিকার অর্থে কল্যাণকামী হয়ে উঠুক

ঢাকাস্থ সুনামগঞ্জ সমিতির নির্বাচন আগামী ১২ আগস্ট শুক্রবার। প্রায় ১১ শ’ ভোটারের এই নির্বাচনে দুইটি প্যানেলে সর্বমোট ৫৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যক্তি পর্যায়ে তুমুল প্রচারণা চলছে। অতীতে এই নির্বাচন নিয়ে এতোটা তোড়জোড় দেখা যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর প্রচারণার আধিক্য থেকেই বুঝা যায় সংগঠনটি বেশ সাড়া জাগিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে পেশ করেছেন। অবধারিতভাবেই ঢাকায় বসবাসকারী সুনামগঞ্জের অধিবাসী ও সুনামগঞ্জের কল্যাণ সাধনই সকলের পরিকল্পনার মূল উপজীব্য। প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর সুনামগঞ্জ সমিতির আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও ভোটারদের আমরা অভিনন্তন জানাই। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি যোগ্য, প্রতিশ্রুতিশীল ও প্রতিভাবান কমিটির আশা করছি আমরা। যেহেতু সুনামগঞ্জ সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার না হলেও আপামর সুনামগঞ্জবাসীর উৎসাহ ও আগ্রহের অন্ত নেই। সকল প্রার্থী আমাদের পরিচিত। প্রচারণা আছে সুনামগঞ্জেও। মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই যার যার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভূমিকা রাখছেন।
ঢাকায় প্রায় সকল জেলার আলাদা আলাদা সমিতি রয়েছে। জেলাভিত্তিক অনেক সমিতির সফল কর্মকা-ের খবরাখবরও আমাদের জানা। রয়েছে বৃহত্তর সিলেটকেন্দ্রীক জালালাবাদ এসোসিয়েশন। এইসব সমিতি বা সংগঠন ঢাকায় বসবাসকারী এলাকার লোকজনের আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা। সুনামগঞ্জ সমিতির ভোটার সংখ্যা বর্তমানে ১১ শ’। কিন্তু ঢাকায় বসবাসকারী সুনামগঞ্জের অধিবাসীর সংখ্যা এর চাইতে ঢের বেশি। স্পষ্টতই বুঝা যায় ঢাকায় বসবাসকারী সুনামগঞ্জের সকলে এখনো সংগঠনের সদস্য হননি। সুনামগঞ্জ সমিতিকে তাই প্রথমেই ঢাকায় অবস্থানরত সকলকে সংগঠনভূক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা জানি পেশাগত কারণেই বাইরে একটি বিরাট সংখ্যক লোক উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জণ্য ঢাকায় বসবাস করেন। বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে সদস্যপদ দেয়া একান্ত প্রয়োজন। সংগঠনের একটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগকেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। ন্যুনতম আবাসনসুবিধাসহ এই মিলনকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে অবসর সময়ে যেমন এখানে এসে এলাকার লোকজনের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করা যায় তেমনি পারষ্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধও অটুট হয়। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের যেসব লোক ঢাকায় বসবাস করেন তাদের একটি ডাটাবেস সংরক্ষণের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সমিতি তাদেরকে নানাক্ষেত্রে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রবাসে দেশের মানুষের চাইতে আপন আর কেউ হতে পারে না।
নির্বাচন উপলক্ষে প্যানেলগুলো যে কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো জালালাবাদ এসোসিয়েশনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা। আমরা কামনা করি নবনির্বাচিত কমিটি এই কাজটি দ্রুত সফলতার সাথে শেষ করবেন। এই সমিতি সুনামগঞ্জের কৃতবিদ্যদের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে নিয়মিত কিছু জনসেবামূলক কর্মকা- পরিচালনা করতে পারেন। যেমন যেসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন তারা যদি মাসে অন্তত একবার বিশেষ কোন দিনে সুনামগঞ্জে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তাহলে অত্রাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত লোকজনের উপকার হবে। অন্যান্য পেশাজীবীদের মাধ্যমেও সমভাবে কল্যাণমূলক কর্মকা- চালানো যেতে পারে। এতে সুনামগঞ্জের সফল পেশাজীবীরা যেমন এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে প্রীত হবেন তেমনি এটি নতুন প্রজন্মের জন্যও আদর্শ তৈরি করবে। আরও বহু কর্মকা- পরিচালনার সুযোগ রয়েছে যা আমাদের চাইতে সমিতির নেতৃবৃন্দ ভাল বুঝেন। সুতরাং পরামর্শের বোঝা আমরা তাঁদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছি না। আমরা চাইছি শুধু সংগঠনটি সর্বার্থে একটি কল্যাণমূলক সংগঠনের চরিত্র ধারণ করে।
শুক্রবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারাই নির্বাচিত হবেন তাঁদের প্রতি রইলো আমাদের আগাম শুভেচ্ছা। সুনামগঞ্জকে আলোকিত করার প্রয়াসে নিবেদিত এই সংগঠনের সর্বতো সফলতা কামনা করি আমরা।

  • [১]