বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান বলেছেন,‘পারমানু শক্তি কমিশন ছাড়া পানিতে ইউরেনিয়াম মিশ্রিত হয়েছে কী না, এটি বলার কর্তৃপক্ষ অন্য কেউ নয়।’ তিনি বলেছেন,‘আমরা টাঙ্গুয়ার হাওরকে টার্গেট করে এসেছিলাম। ঐ হাওরে পানির অবস্থা দেখে ভালোই লেগেছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের পানি অতটা দূষিত হয়নি। আমরা নির্দিষ্ট প্যারামিটার মেনেই পরীক্ষা করেছি। পানির নমুনা সাথে নিয়েছি। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে। টাঙ্গুয়ার হাওরে ৭ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে আলো প্রবেশ করছে। এর অর্থ পানি পরিস্কার। না হয় আলো ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটারে চলে আসতো। যদি ওখানে অপদ্রব্য মেশানো থাকতো তাহলে আলো প্রবেশের ক্ষমতা অতোটা থাকতো না।’
তিনি বলেন,‘আলো যখন বেশি প্রবেশ করে তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ অক্সিজেন তৈরি করে। সেই অক্সিজেন মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণি গ্রহণ করে। সুতরাং কোন দূষণের ক্ষেত্রে
যদি অক্সিজেন কমেও যায় তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন কারণ নেই। টাঙ্গুয়ার হাওর ভাল আছে। অন্যান্য হাওর যেগুলোতে মাছ এবং হাঁস মরেছে। হাঁসগুলো পালন করা। মারা যাওয়ার কারণ হিসাবে আমরা মনে করছি, যখনই অক্সিজেন কম হয়ে যায়, তখনই শ্বাস প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। হাওরে যেভাবে হাজার হাজার হেক্টর ধান রয়েছে, সেগুলো কৃষকের ঘরে ওঠার কথা ছিল। পানির নিচে গিয়ে সেগুলো পঁচার কারণে বিষাক্ত গ্যাস-বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে দূষণ দেখা দিয়েছে। পানিতে অক্সিজেন কম হলে স্বাভাবিকভাবেই জীবের কষ্ট হতে পারে। আমরা যতদূর জেনেছি জলজ অক্সিজেনের অভাবের কারণেই মাছের মৃত্যু হচ্ছে। তবে যেসব মাছ এমন পরিস্থিতিতে কাদা বা মাটির ভেতরে ঢুকে যায় তাদের কোন ক্ষতি হবে না।’
শনিবার রাত পৌঁনে আট টায় টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ সদস্যের গবেষক দলের নেতৃত্বদানকারী ড. মনিরুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, পরমানু শক্তি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল রোববার সুনামগঞ্জে আসবেন ।