- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তবে কি পরিবারটি পথে দাঁড়াবে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের একটি কক্ষে বসবাস করছেন একই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ কুতুব আলী। শুধু তাই নয়, তিনি রীতিমতো ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের বাড়ির মতো ব্যবহার করছেন। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের বারান্দা ঘেষেই গোয়াল ঘর, রান্নাঘর, খোয়াড় (হাঁস-মোরগ লালন পালনের জন্য ছোট ঘর) তৈরি করেছেন এবং সেখানে তিনি রান্নাবান্নাসহ গবাদি পশু লালন পালনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। টিনের তৈরি এসব স্থাপনা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য বিনষ্ট করেছে। তবে কুতুব আলী জানিয়েছেন তার কোনো বসতভিটা না থাকায় পরিবার নিয়ে নিরুপায় হয়ে পরিষদে বসবাস করছেন। এদিকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের অবকাঠামোগত মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কোথাও মেঝে দেবে গেছে আবার কোথাও উঠে গেছে মেঝের পলেস্তারা। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিনষ্ট হয়েছে প্রতিরক্ষা দেয়াল। ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পেছনে বিদায়ী চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরীর উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান। তবে বিদায়ী চেয়ারম্যান নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের এমন দাবির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে কুতুব আলীকে পরিষদের একটি কক্ষে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এলজিইডির অধীনে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। তখন থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের নিচতলায় একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নোঁয়াহাটি গ্রামের কুতুব আলী তার এক স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কমপ্লেক্স ভবনের এমন বেহাল দশা ও অস্বস্তিকর পরিবেশের কারণে জনপ্রতিনিধিদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
গ্রাম পুলিশ কুতুব আলী বলেন, ‘আমার কোনো বসতভিটা নাই। নিরুপায় হয়ে এখানে থাকি। এতে করে পরিষদ পাহারা দেওয়ার কাজও হয়ে যায়। বিদায়ী চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়েই এখানে থাকছি এবং অন্যত্র একটু জায়গা করে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে (বিদায়ী) বারবার বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরিষদে থাকতে সমস্যা হলে অবশ্যই অন্য স্থানে চলে যাবো। কিন্তু এর জন্য আমাকে সময় না দিলে পরিবার নিয়ে পথে নামতে হবে।’
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন তালুকদার বলেন, ‘এমন পরিবেশে পরিষদের কার্যক্রম চালানো অস্বস্তিকর। সে (কুতুব) অন্যত্র চলে যাবে বলেছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
বিদায়ী চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘পরিষদের কাঠামো সুন্দর নয়। আমাদের কোনো রকমে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমার দিক থেকে পরিষদকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করেছি। পরিষদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রয়েছে যা চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। তাই পাহারা দেওয়ার অভিপ্রায়ে এবং সহায় সম্বলহীন কুতুব আলীর আবাসনের কথা চিন্তা করে তাকে (কুতুব) পরিষদে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’
ধর্মপাশা প্রেসক্লাবের সভাপতি তরিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘কুতুব আলীকে মুজিববর্ষের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘কুতুব আলী যদি ভূমিহীন হয়ে থাকে তাহলে তাকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]