- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘তারা কুরবানি না দিলে আমাদের গোস্ত খাওয়া হবে না’

আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
আর কদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব। কিন্তু এবার হাওরবাসীর মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। হাওরবাসীর কান্নায় বিলীন হয়ে গেছে ঈদ আনন্দ। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই তলিয়ে যায় দিরাই উপজেলার সবকটি হাওড়। একমাত্র সম্বল বোরো ফসল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে হাওর পাড়ের অধিকাংশ বাসিন্দা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে একই অবস্থা বিরাজ করেছে। উপজেলার মানিকদা গ্রামের মুবশি^র মিয়া (৭০) জানান, আমাদের গ্রামের     অধিকাংশ মানুষ গরীব, কিছু গৃহস্থ আছেন প্রতিবছরই কুরবানি দিতেন। কিন্তু এবার ফসলহানির কারণে হয়তো তারা কুরবানি দেবেন না, তারা কুরবানি না দিলেতো আর আমাদের গোস্ত খাওয়া হবে না।’
সিদ্দিক মিয়া জানান, আমরা ৪-৫টি পরিবার একত্রিত হয়ে একটি গরু কুরবানি করতাম। কিন্তু এবৎসর আর কুরবানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
এমনচিত্র উপজেলার রফিনগর, ভাটিপাড়া, চরনারচর, রাজানগর, সরমঙ্গল, তাড়ল, জগদল, করিমপুর ও কুলঞ্জ ইউনিয়নের অনেক গ্রামে। তবে স্বচ্ছল ও প্রবাসী পরিবারে যথারীতি কুরবানি হলেও তারাও আছেন একটি ভয়ে।
দিরাই পৌর সদরের বাসিন্দা লালন মিয়া জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৫টি গরু কুরবানি দেয়া হবে। কিন্তু এবার কুরবানির গোস্ত সংগ্রহকারীদের চাপ বেশী হবে। যারা গোস্তের জন্য আসেন তাদের না দিতে পারলে কষ্ট হয়। কুরবানির পশুর হাটে এবার যথেষ্ট পরিমাণে কুরবানির পশু, কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে।
কুরবানির পশু ব্যবসায়ী সিদ্দিক মিয়া জানান, অনেক কষ্টে ৮টি গরু লালন পালন করেছিলাম। কিন্তু এখন আসল তোলাই কঠিন হবে। ক্রেতা কম থাকায় দামও কম হাকা হচ্ছে।
দিরাই বাজারের গার্মেন্স ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া জানান, অন্য বছর স্বাভাবিক যে বিক্রি ছিলো, এবার ঈদেও তা নেই। সকল কাপড় ব্যবসায়ী এবার ধরা খাবে।  

  • [১]