এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
সুনামগঞ্জ জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হলেও উপজেলার গ্রামগুলোতে বহিরাগত মানুষের জনস্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে আসা লোকজনের মধ্যে তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণে শনাক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এ উপজেলায় ইতোমধ্যেই প্রায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে ও ভোরে প্রবেশ করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে গ্রামের হাট বাজারে, ক্ষেতে খামারে ও প্রতিবেশীর সাথে অবাধে মেলামেশা করছেন। বাইরের জেলা থেকে এসেছেন তারা বলেছেন, নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী না পেয়ে পেটের দায়ে লকডাউন বা হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে তাহিরপুর থেকে ২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় সবগুলোই নেগেটিভ আসে। গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর ফলাফল এখনও আসেনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ অন্যান্য জেলা থেকে হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু প্রবেশ করেছে তাহিরপুরে। যারা এসেছেন তাদের সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৮৪ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। ৮৫ জনকে কোয়ারান্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৯৯ জন এখনো হোম কোয়ারান্টাইনেই আছেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএফপিও) ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত যেসব নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল তার সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। আরও কয়েকটির ফলাফল এখনও হাতে আসেনি।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত কিট না থাকায় সীমিত পরিসরে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হচ্ছে। তাহিরপুরে এখনও কোন রোগী শনাক্ত না হলেও সতর্কতার বিকল্প নেই।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি জানান, পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে, যা তাহিরপুর উপজেলার জন্য সংকেত বার্তা। দেশের করোনা ভাইরাস ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে তাহিরপুরে প্রায় সহস্রাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু প্রবেশ করেছে বলে আমরা জেনেছি। এদের মধ্যে অনেককে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাহিরের জেলা থেকে আগতদের মধ্যে অনেকগুলো পরিবারকে আমরা লকডাউনে রেখেছি এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দেয়া হচ্ছে।