- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তাহিরপুরের ছাত্রলীগ নেতা শিপলু হত্যা মামলার রায়- সাবেক ওসি শরিফ উদ্দিনের ১০ বছর কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান শিপলু হত্যা মামলায় তাহিরপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন  কে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং এই মামলার আসামী তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বাকি ৬ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণয় কুমার দাশ এই রায় দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা  মো. বদরুজ্জামানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান শিপলু তাহিরপুর উপজেলার তৎকালীন কৃষক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে ২০০২ সালে মামা শফিকুল ইসলামের বাড়ীতে থেকেই উপজেলার জয়নাল আবেদীন কলেজে পড়াশুনা করতো। ২০ মার্চ রাত ৩ টায় তৎকালীন উপজেলা ছাত্রদলের   সভাপতি,  বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামার কামরুল, তৎকালীন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে সভাপতি মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, বিএনপি নেতা জুনাব আলী, তৎকালীন তাহিরপুর থানার ওসি শরিফ উদ্দিন, এসআই রফিক, তৎকালীন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন মিয়া ও শাজাহান মিয়া ভাটি তাহিরপুরের শফিকুল ইসলামের বাড়ীতে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শফিকুল ইসলাম বাড়ী থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ ও ছাত্রদল নেতারা ওয়াহিদুজ্জামান শিপলুকে আটক করেন। এসময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শিপলু।
এ ঘটনার ২ দিন পর ২৩ মার্চ শিপলু’র মা আমিরুনন্নেছা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল রিপোর্ট প্রদান করেন। ২০০৩ সালে মামলা জেলা জজ আদালতে স্থানান্তর হয়। জেলা ও দায়রা জজ ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করেন।
স্বাক্ষী প্রমাণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানীর ১৭ কার্যদিবসের শেষ দিন গত ২৭ আগস্ট আদালত তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, বিএনপি নেতা জুনাব আলী, তৎকালীন ওসি শরিফ উদ্দিন, তৎকালীন এস আই রফিক, যুবদল নেতা শাহীন মিয়া ও শাহাজাহান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার আসামী তাহিরপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার আদালত শরিফ উদ্দিনকে ১০ বছর করে কারাদন্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ বছর কারাদ-ের আদেশ দেন এবং অন্য আসামি সাবেক এস আই রফিকুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জুনাব আলী, উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, যুবদল নেতা শাহজাহান মিয়া ও শাহীন আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করেন।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন- অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন ও অ্যাড. জহুর আলী। আসামী পক্ষের মধ্যে কামরুজ্জামানসহ বিএনপি’র ৫ জনের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. ফারুক আহমদ এবং পুলিশের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী ও অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ।

  • [১]