স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরের ৬ ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৩ টি স্থানে পরাজিত ইউপি সদস্যের সমর্থকরা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। উপজেলা টেকাটুকিয়া গ্রামে হিন্দুদের স্বরস্বতী মূর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা ঠেকাতে এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পরাজিত ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনের সমর্থকরা সোমবার রাত নয় টায় টেকাটুকিয়া গ্রামে এসে বর্মণ পল্লীতে হামলা করে। এসময় সুকেশ বর্মণ, ঋতুরাজ বর্মণ, খেলন বর্মণ ও অলকেশ বর্মণ আহত হয়। এদেরকে তাহিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রামের রুনু বর্মণ জানিয়েছেন, হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে মহিলাদেরও মারপিট করেছে। সরস্বতী মূর্তিও ভাংচুর করেছে। টেকাটুকিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তাহিরপুরের বালিজুরি ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী রেনু মিয়া ও তাঁর সমর্থকরা রাতেই দা-বল্লম, লাঠিসোটা নিয়ে হিন্দু পল্লীর বাড়ি বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে যায়। সকলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার জন্য হুমকি দেয়। ভয়ে গ্রামের লিটন বর্মণসহ কয়েকজন রাতেই বাড়ি ছেড়ে পাশের গ্রামে গিয়ে অবস্থান নেন।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যান। বাড়ি ছেড়ে যাওয়াদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন ইউএনও।
সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামে পরাজিত ইউপি সদস্য সফিক মিয়ার সমর্থকরা গ্রামের নিরীহ হিন্দু পরিবারের লোকজনকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামের লোকজন।
এছাড়া দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামে ভোট গ্রহণ কর্মীদের উদ্ধার করতে সোমবার রাতে ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে হয়েছে পুলিশকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশের ফাঁকা গুলিতে লামাগাঁও গ্রামের মাসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটেছে।
লামাগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হরি নারায়ণ বিশ^াস জানিয়েছেন, ভোট গণনা কাজ শেষ করে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে তাহিরপুরের দিকে রওয়ানা হলে পেছন থেকে এলাকার লোকজন ধাওয়া করে। পরে তারা (ভোট কর্মীরা) লামাগাঁও বাজারের একটি দোকানে ঢুকে নিজেদের রক্ষা করেন। ঘন্টা খাানেক পর স্ট্রাইকিং ফোর্স গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এসময় ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পুলিশ।
এছাড়া শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তর শ্রীপুরের গোলকপুর এলাকায় সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে দুই দফা ইউপি সদস্য প্রার্থী শফিকুল ও সিজ্জিল মেম্বারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে কয়েকটি স্থানে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার শাহিদুর রহমান জানান, টেকাটুকিয়ায় পুলিশসহ তিনি নিজে অবস্থান করছেন। ওখানে রাতে পরাজিত ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন মিয়ার লোকজন বর্মণ পল্লীতে হামলা করেছিল। সকালে কালীমন্দিরের ভেতরে স্বরস্বতী মূর্তি ভাংচুর অবস্থায় দেখা যায়। কারা ভাংচুর করেছে কেউ বলতে পারে নি। অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আক্রমণের শিকার যারা হয়েছেন তাদেরকে মামলা দিতে বলা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির বললেন, বড়খলা গ্রামের কিছু পরিবারকে ভয় দেখানো হয়েছিল। তারা বাড়ি ছেড়েছিলেন, আমি নিজে ওখানে গিয়ে তাদেরকে বাড়ি রেখে এসেছি। অন্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেউ যদি এমন আচরণ পরবর্তীতে করেন তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, তাহিরপুরের বর্মণ পল্লীতে হামলার ঘটনাকে আমরা নিরীহদের উপর সবলের হামলা হিসেবে বিবেচনা করছি। ওখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।