তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে নারী পুরুষ সহ দুই পক্ষের ফের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ১২জন কে সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আশংখাজনক অবস্থায় উভয় পক্ষের ৮ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। আশংখাজনকরা হলেন, নয়ন মিয়া (৪৫), তাজুদ আলী (৪৫), এসএসসি পরীক্ষার্থী রাজ্জাক মিয়া (১৮), কাজিম মিয়া (৩৫), রতন মিয়া (২২) কাঞ্চন মিয়া (২০), আলী হায়দার (৩৫), সুরমিনা বেগম (১৮)। অপরদিকে তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মল্লিক মিয়া (৪০), দুলাল মিয়া (৫০), মোস্তফা মিয়া (২৫), উজ্জল মিয়া (৩০) কামাল মিয়া (৪০), হবিব মিয়া (৪৫) কে। অন্যান্যদের স্থানীয় বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে তাহিরপুর থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিক গ্রামে অভিযান চালিয়ে উভয় পক্ষের ১৩ জনকে আটক করেছে। এসময় সংঘর্ষে ব্যবহৃত বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, পেয়ার আলী মড়ল, আইবুল, হাবলু, নবীনুর, বাবলু, মেম্বার, সরিফ, দুলু মিয়া, আজিজুল, সাইদুল, বিল্লাল, ও রতন মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের মল্লিক মিয়া ও তাজুদ আলী এবং একই গ্রামের পেয়ার আলী মড়ল ও নুরুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এরই ধারাবাহিতকায় গতকাল সোমবার দুপুরে মল্লিক মিয়া তার পৈতৃক জমিতে সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি মারতে গেলে প্রতিপক্ষ পেয়ার আলীর লোকজন তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথম দিনে প্রায় ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে মঙ্গলবার ভোরে দ্বিতীয় দিনে আবার একই বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে গ্রামে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে উভয় পক্ষের ১৩জন সহ সংঘর্ষে ব্যবহৃত বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে পুলিশ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে এবং পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।