স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরের টাকাটুকিয়া গ্রামে বখাটেদের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ৭ জনকে আটক করলেও দুপুরেই আদালত থেকে জামিন পেয়েছে তারা। কোর্ট ইন্সপেক্টর সেলিম নেওয়াজ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইশরাত জাহান আসামিদের জামিন দেবার আদেশ দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, টাকাটুকিয়ায় বর্মণ পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে টুকেরগাঁওয়ের মৃত ফালু মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৬৫), মুক্তার মিয়ার ছেলে পাভের মিয়া (২৪), বিল্লার মিয়ার ছেলে সালাম মিয়া (৩০) এবং লাসিম মিয়া (২৪), মৃত একরাম হোসেনের ছেলে এমেদ মিয়া (৬০), আফছর উদ্দিনের ছেলে মুক্তার মিয়া (৫২), সিরাজ মিয়ার ছেলে মেজর মিয়া (২৩) আটক করে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।
গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) বখাটেপনার বিরুদ্ধে নালিশ করার জের ধরে টাকাটুকিয়ার দেবেন্দ্র বর্মণের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল পাশের টুকেরগাঁও গ্রামের একদল বখাটে। হামলায় বৃদ্ধ ও নারীসহ আটজন আহত হয়েছিলেন।
হামলার দিন রাতেই ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫ জনকে আসামি করে দেবেন্দ্র বর্মণের ছেলে সত্যেন্দ্র বর্মণ তাহিরপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ এই মামলায় ১৬ এপ্রিল তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। গত রোববার দুপুরে ওই তিন আসামির জামিন হয়। আজ বৃহস্পতিবার আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালতের বিচারক বেগম ইশরাত জাহান এই ৭ জনকেও জামিন প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত. তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদীর পূর্ব পাড়ের গ্রাম টুকেরগাঁও। পশ্চিম পাড়ে টাকাটুকিয়া গ্রাম। টাকাটুকিয়া গ্রামে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মিলেমিশে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাঝে ভালোবাসা আর সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে। তবে টুকেরগাঁও গ্রামের কিছু বখাটে তরুণ বহুদিন ধরেই বর্মণ পাড়ার স্কুল পড়ূয়া ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছে।
এই বিষয়টি নিয়ে গ্রামের বিশিষ্টজনরা জামালগড়, রসুলপুর ও টুকেরগাঁও গ্রামের গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক করে টুকেরগাঁওয়ের মোক্তার আলীর ছেলে বখাটে কাশেম মিয়া, শহীদ মিয়ার ছেলে লাইট মিয়া ওরফে রুহিত, বিল্লাল মিয়ার ছেলে মুসা মিয়া ও মুক্তার আলীর ছেলে পাবেল মিয়া, সিরাজ মিয়ার ছেলে মেজর আলীকে বখাটেপনার জন্য সামাজিক বিচারে শাস্তি দিয়েছিলেন। তাদের সালিশে কান ধরে উঠবস করানো হয়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না বলে সালিশে অঙ্গীকারও করেছিল তারা।
এই বিচারের পর আরও ক্ষেপে যায় বখাটেরা। তারা নানাভাবে বর্মণ পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করতে থাকে। ছয় মাস আগে দেবেন্দ্র বর্মণের ছেলে বাছিন্দ্র বর্মণের ৫০ হাজার টাকা দামের জালে আগুন দেয়। এরপর খড়ের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র দল বর্মণ বাড়িতে হামলা করে পুরুষ ও নারীদের মারধর এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বললেন, প্যানেল কোডের যে ধারায় টাকাটুকিয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেটি জামিনযোগ্য ধারা। প্রকৃতপক্ষে এই মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে হওয়া আইনসঙ্গত ছিল।