আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরের সীমান্ত গ্রাম গোটিলা থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ জন রোহিঙ্গাকে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় উখিয়ায় ফেরৎ পাঠিয়েছে পুলিশ। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন এই রোহিঙ্গারা। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের গোটিলা গ্রাম থেকে একই পরিবারের ১১ জনকে আটক করে তাহিরপুর থানায় এনে রাখা হয়। সকালে ঐ ১১ জনের সঙ্গে যুক্ত হয় তাদের আত্মীয় ৭ বছরের শিশু কাওছার।
১১ সদস্যের পরিবারের অভিভাবক আব্দুছ ছবুর বলেন, ‘২০১৬ সালে রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু হলে আমি মিয়ানমারের সেনাদের রোষানলে পরি। পরে জঙ্গলে ঢুকে ২৭ দিন ২৭ রাত কাটিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে অনেক কৌশলে এদেশে প্রবেশ করে কুতুব পালংয়ে অবস্থান নেই। পরবর্তীতে মিয়ানমারে নির্যাতনের মাত্রা বাড়লে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ঐ সময় (গত রমজান মাসে) পরিবারের অন্য সকলকে এদেশে নিয়ে আসি। আমার ৫ ছেলে ৪ মেয়ে। ২ ছেলে হাটহাজারি মাদ্রসায় পড়াশুনা করে। তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের তোতা মিয়ার ছেলে আলামিনও ওখানে পড়াশুনা করে। আমার ছেলেদের সঙ্গে আলামিনের পরিচয়ের সুবাদে আমরা উত্তর বড়দল ইউনিয়নের গোটিলায় সকলেই চলে আসি। পরে তোতা মিয়া ও আলামিনের সহায়তায় গত ঈদুল ফিতরের কিছুদিন পর বাদাঘাট ইউনিয়নের নাগরিকত্ব নেই।’
আব্দুছ ছবুরের স্ত্রী আমিনা বেগম বলেন,‘সেনারা বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে। দুটি বড় মেয়েসহ ৪ টি মেয়ে আছে, ওদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে এসেছি।’ একই ধরনের বক্তব্য দেন ছেলে আব্দুল হালিমও।
সুনামগঞ্জ থেকে উখিয়ায় পাঠানো রোহিঙ্গারা হলো, মিয়ানমারের আকিদাবাদ জেলার মংদু থানার কুয়ান শিবং গ্রামের সাকির আহমদের ছেলে আব্দুছ ছবুর (৫১), স্ত্রী আমিনা বেগম (৪২), ছেলে আব্দুল হালিম (২৩), মেয়ে হালিমাতুস সাহিয়া (১২), মেয়ে তালিহা আক্তার (১৫), মেয়ে হারিসা আক্তার (১৩), ফারিসা আক্তার (১১), ছেলে আসলম (৭), মেয়ে উম্মা বেগম (২),আব্দুল হালিমের স্ত্রী উম্মূল খাইরিন (২২) , মেয়ে মোশারফা (১) ও আব্দুল হালিমের শ্যালক কুয়ান শিবং গ্রামের নূর আলমের ছেলে কাওছার (৭)।
১২ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আব্দুছ ছবুর, আমিনা বেগম, আব্দুল হালিম, হালিমাতুস সাহিরা, তালিহা আক্তার ও উম্মূল খাইরিনসহ মোট ৬ জনকে অবৈধভাবে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া হয়েছিল। গত ১৭ জুলাই ওই ৬ জনকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘একই পরিবারের ১১ জনসহ ১২ জন রোহিঙ্গাকে তাহিরপুর থেকে শুক্রবার বেলা ১১ টায় সুনামগঞ্জে পাঠানো হয়। ওখান থেকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।’ রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যদের বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান নাগরিকত্ব ও জন্ম সনদ প্রদানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদপত্র প্রদানের বিষয়ে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। শুক্রবার তাঁর মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানার জন্য কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। শুক্রবার বেলা ১১ টায় ‘আমরা আপ্তাব উদ্দিন সমর্থক’ নামের একটি ফেসবুক একাউন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নাগরিক সনদপত্র দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে স্বাক্ষর দিতে হয়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান, এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান একা দায়ী নয়।’
সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, বিকাল সাড়ে ৪ টায় ১২ রোহিঙ্গাকে উখিয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।