আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
নাম সর্বস্ব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ইসলামী সম্মেলনের কথা বলে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাহিরপুর উপজেলার গুটিলা গ্রামের এক মাওলানার বিরুদ্ধে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গুটিলা গ্রামে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ)
নুরানী মহিলা মাদ্রাসার নামে ইসলামী মহাসম্মেলনের কথা বলে মাদ্রাসার খাদিম আল আমিন চাঁদা আদায় করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ গুটিলা গ্রামে খাদিজাতুল কুবরা (রা.) নুরানী মহিলা মাদ্রসা নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। মাওলানা আল আমিন পোস্টারে ভারত, মালয়েশিয়া সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নামি দামী ইসলামী চিন্তাবিদদের নাম প্রচার করে সম্মেলন করার কথা বলে নিজের পকেট ভারী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত আল আমিন দায় স্বীকার করে বলেন, ‘এ নামে কোন প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করেনি। স্থানীয় লোকজনদের না জানিয়ে আমি গুটিলা দক্ষিণ পাড়া মক্তবে কিছু ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে শুরু করেছিলাম। আগামী ১৪ ডিসেম্বর যে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল তা আর ঐ তারিখে হচ্ছে না। পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের সাথে পরামর্শ করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করবো।’
অভিযোগ রয়েছে বিশ্বখ্যাত আওলাদে রাসুল বিশিষ্ট মুহাদ্দিস সায়্যিদ আরশাদ মাদানী (ভারত) এর নামের সাথে সংগতি রেখে ‘সায়্যিদ এরশাদ আল মাদানী ভারত’ লিখে সম্মেলনের পোস্টার করে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলেন মাওলানা আল-আমিন। ইতিমধ্যে তিনি সম্মেলনের কথা বলে লক্ষাধিক টাকা তুলেছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক জানাজানি হলে তিনি চাপের মুখে নিজেকে আড়াল করতে ১৪ ডিসেম্বর সম্মেলন না করার কথা জানান ।
উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, ‘আরশাদ মাদানী নামে ভারতের দেওবন্দের একজন ইসলামী চিন্তাবিদ আছেন কিন্তু এরশাদ আল মাদানী বলে কোন ইসলামী চিন্তাবিদ আছেন তা আমার জানা নেই।’
বাদাঘাট ইউনিয়ন মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস মল্লিক বলেন, ‘বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদদের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি করে মাওলানা আল আমিন পোস্টার করে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় প্রচার করেছেন ১৪ ডিসেম্বর গুটিলা গ্রামে ইসলামী সম্মেলন হবে। এখন শুনেছি ঐ তারিখে সম্মেলন হবে না । হলেও বিখ্যাত চিন্তাবিদ কেউ থাকছেন না। বিষয়টি আমার কাছে প্রতারনা ছাড়া অন্য কোন কিছ্ ুমনে হয় না।’
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গুটিলা গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার গ্রামে এ রকম কোন মাদ্রসা নেই। গ্রামের একাধিক লোকজন ও মাদ্রসা মক্তবের হুজুরগণ আমাকে জানিয়েছেন মাওলানা আল-আমিন নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা তুলেছেন। এ বিষয়ে আমি এলাকার মাদ্রাসা, মক্তবের হুজুরগণের কাছে বিচারপ্রার্থী হবো।’
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার জানামতে গুটিলা গ্রামে খাদিজাতুল কুবরা(রাঃ)নুরানী মহিলা মাদ্রসা নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। শুনেছি মাওলানা আল আমিন ১৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের আয়োজন বাতিল করেছেন।’