তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ২৪ জন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী লজ্জাজনক ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বিজয়ী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন পেয়েছেন ১১ হাজার ৫০৭ ভোট এবং আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট। বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নে বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ইউনুস আলী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৪৯ ভোট। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম ৭৬৯ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত আরও দুই প্রার্থীর একজন তৃতীয়, আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের এমন ভরাডুবিতে দলের নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জামানত হারাচ্ছেন উত্তর বড়দল ও শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ। দুটি ইউনিয়নেই ৬ জন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এছাড়াও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে ২ জন, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩ জন, বাদাঘাট ইউনিয়নে ৫ জন, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ২ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ২ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বাচ্চু মিয়া (অটোরিক্সা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হোসাইন শরীফ বিল্পব (আনারস)। তারা দুই জন যথাক্রমে পেয়েছেন ৬০ ভোট ও ১২৭ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ১৪ হাজার ৫২ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১০ হাজার ৭৫২ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ১০ হাজার ৬০২ ও বাতিল ভোট ১৫০।
বড়দল উত্তর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ৬ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী মলো হোসেন (রজনীগন্ধা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এ কে নুর মিয়া (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রাথী মো. সাহাব উদ্দিন (টেলিফোন) প্রতীকে পেয়েছেন ৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিরাজ মিয়া (টেবিলফ্যান) প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসেন আলী (অটোরিক্সা) প্রতীকে পেয়েছেন ৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুহুল আমীন (আনারস) প্রতীকে পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ২৪ হাজার ৪১৪ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৮ হাজার ৯৭৬ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ১৮ হাজার ৭৬৪ ও বাতিল ভোট ২১২।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ৩ জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম ৭৬৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ (টেলিফোন) ৩৮০ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ আহমদ (ঘোড়া) ৬৪৭ ভোট পেয়েছেন। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ১৪ হাজার ৭৪৭ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১১ হাজার ৩১৯ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ১১ হাজার ১৬১ ও বাতিল ভোট ১৫৮।
বাদাঘাট ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ৫ প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর (হাতপাখা) প্রার্থী ৫৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রব্বানী (মোটরসাইকেল) ৬৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বুরহান উদ্দিন (টেবিলফ্যান) ২০৩ ভোট, আওয়ামীলীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী মো. সুজাত মিয়া ৪৫৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া (চশমা) পেয়েছেন ১১ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ৩১ হাজার ৩০৪ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৩ হাজার ৮৪৯ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ২৩ হাজার ৪৬১ ও বাতিল ভোট ৩৮৮।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ৬ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষ্ণ গোপাল তালুকদার মানব (দুটি পাতা) পেয়েছেন ৩০৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন (চশমা) প্রতীকে পেয়েছেন ২৭৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলম (টেলিফোন) পেয়েছেন ১৮১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বাবুল মিয়া (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১ হাজার ৬২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুহিবুর রহমান রুবেল (টেবিলফ্যান) পেয়েছেন ৫৬৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লুতফুর রহমান (ঘোড়া) পেয়েছেন ১১৪৬ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ হাজার ৯২০ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১০ হাজার ৯৭৯ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ১০ হাজার ৭৪৪ ও বাতিল ভোট ২৩৫।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ২ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী খায়রুল বাশার (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৪১২ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শামছুল হক (ঘোড়া) পেয়েছেন ২৫৬৬ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ৩০ হাজার ৬৩৭ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২২ হাজার ৪৭৫ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ২২ হাজার ৭৫ ও বাতিল ভোট ৪০০।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বললেন, প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মূল্যায়ন হয় নি। যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই তাদেরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শ্রীপুর উত্তর, দক্ষিণ বড়দল ও বাদাঘাট ইউনিয়নের প্রার্থী মনোনয়ন কিভাবে হয়েছে জেলা কমিটিকে জিজ্ঞেস করতে হবে। অজনপ্রিয় প্রার্থীকে জয়ী করা কঠিন। তাহিরপুরে সেটিই হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেও পারি নি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বললেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান, দলীয় নেতা সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, ইউনুস আলীসহ দলের জনপ্রিয়রা মনোনয়ন পান নি। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে এরা বিজয়ী হয়েছেন। দলের জেলা নেতারা তাদের মনোনয়ন দিতে পারেন নি। জনপ্রিয়রা মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েও দলীয় মনোনীতদের ভরাডুবি হয়েছে। এই দায় সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বললেন, আমরা পোস্ট অফিসের কাজ করেছি। উপজেলা থেকে দেওয়া প্রার্থী তালিকা কেবল স্বাক্ষর করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, দায় সংসদ সদস্যের আছে। তাদের কথা বেশি শুনে এলাকার কর্মী-সমর্থকরা।