স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে গুরমা হাওরে বেড়ি বাঁধ পরিমাপ করতে গিয়ে গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালালেন সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ সহকারী-প্রকৌশলী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গুরমা এক্সটেন্সন প্রকল্প এলাকা শরীফপুর-দুর্লভপুর- মাহমুদপুর বাঁধে।
এলাকাবাসী জানায়, প্রকল্প বাঁধটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকার অন্তর্গত। বিগত বছরে উক্ত বাঁধটি ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নির্মাণ করেন। চলতি বছর এ বাঁধের কাজ সংশ্লিষ্ট ইউপি
সদস্যকে না দিয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়াকে কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান করায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে কাজ দেয়ার দাবি তোলে। ইউপি সদস্য ও পাউবো উপসহকারী প্রকৌশলী আলী রেজা প্রকল্পে ম্যাজারমেন্ট কাজ করতে গেলে গ্রামবাসী ধাওয়া দিয়ে দুই জনকেই তাড়িয়ে দেয়।
প্রকল্প এলাকার দুর্লভপুর গ্রামের কয়েছ মিয়া, সুপন্দর ইসলাম,ওমর ফরুক,রেজা মিয়া সহ অনেকে জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান ছোটন মিয়াকে প্রকল্প না দিয়ে ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়াকে প্রকল্প কাজ দেয়ায় গ্রামবাসী সবাই মিলে ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া ও সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে প্রকল্প এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম কিবরিয়া জানান, ইউপি সদস্য ছোটন সভায় না থাকায় আমাকে প্রকল্প কাজ দিয়েছে চেয়ারম্যান। আমার ব্যক্তিগত কোন ইচ্ছে নেই প্রকল্পে কাজ করার।
২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান ছোটন বলেন,‘ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার ইউনিয়ন পরিষদে না বসে সুনামগঞ্জ শহরে বসে আমাকে না জানিয়ে আমার এলাকার প্রকল্প অন্য ওয়ার্ডের সদস্যকে দেয়ায় গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন,‘ ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ব্যতিত সকল ইউপি সদস্যের সম্মতিক্রমে আমি গুরমা এক্সটেন্সন বাঁেধর কাজ ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়াকে দিয়েছি।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী রেজা বলেন,‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান যাকে প্রকল্প চেয়ারম্যান করেন তিনিই প্রকল্পের কাজ করিয়ে থাকেন। তাছাড়া বাঁধে কাজ করতে গেলে কিছু মানুষ পক্ষে আর কিছু মানুষ বিপক্ষে থাকেই।’