- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তাহিরপুরে ধানের বাম্পার ফলন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
জেলার বৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওরের উপজেলা তাহিরপুরে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরের কৃষকদের ধানের গোলা সোনালি ধানে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কম্বাইন্ড হারভেস্টার থাকায় ধান কাটা ও মাড়াইয়েও সুবিধা পেয়েছেন তারা। কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর দুই দফা বন্যার সাথে ভেসে আসা পলিমাটির কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েক জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান হাওরকে সোনার ফসলে ভরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি তীব্র দাবদাহ ও গরম হাওরের ধান দ্রুত পাকতে সাহায্য করেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় হাওরের জাঙ্গালগুলোও (রাস্তা) ছিল ভালো। এতে হাওরের মাঝ ও তলানি থেকে ট্রলি ও ্েঠলাগাড়ি দিয়ে ধান কৃষকের খলাগুলোতে সহজেই পরিবহন করা গেছে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, বিগত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, এবছর হাওরে পর্যাপ্ত পরিমান কম্বাইন্ড হারভেস্টার থাকার কারণে হাওরে ধানকাটা শ্রমিকের কোন সংকট ছিল না। তাছাড়া তিনি হাওরগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখে কৃষকদের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন এ পর্যন্ত হাওরে ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৯০ হেক্টর হাওরের জমিগুলোতে চাষাবাদ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩০ হেক্টর বিভিন্ন কিত্তায় (গ্রামের পাশের) জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন হাওরে কৃষকের ধানের খলাগুলো ঘুরে দেখেছি। কৃষকরা প্রাণখুলে হাসি মুখে বলেছে এবারের ফসলের কোন কোন তুলনাই হয় না। কৃষকরা জানান, এবারের মতো বাম্পার ধানের ফলন বিগত ১৫/২০ বছরেও হয়নি।

  • [১]