- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তাহিরপুরে নিম্নাঞ্চলের ৭০টি গ্রাম প্লাবিত

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে থাকা ৫০টি পরিবার যখন তাদের ঘরবাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই তৃতীয় দফা বন্যা দেখা দেওয়ায় তাদের বন্যাশ্রয় কেন্দ্রেই থাকতে হচ্ছে। নদী ও হাওরের পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বন্যাশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বানবাসি লোকজনের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত আরো ১০০টি পরিবার বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সুব্রত দাস।
তৃতীয় দফা বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৭০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসত বাড়িতে পানি ওঠার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাদের ঘরের রান্নাবান্নার কাজ হচ্ছে না। শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তারা খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে। গত তিনদিন ধরে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ী নদী যাদুকাটা উপচে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এমরান হোসেন। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ২৭০টি পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় দেড়শতাধিক পরিবার বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ও রাস্তাগুলো হলো তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারপুর বাজার, উপজেলা সদরের তাহিরপুর বাজার হইতে ঠাকুরহাটি আখঞ্জি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, তাহিরপুর থানা সম্মূখ হতে রায়পাড়া রাস্তা। এছাড়াও যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বসতবাড়িগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নীচে তলিয়েছে। তাহিরপুর লামা বাজার, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের নতুনজাজার ও শ্রীপুর বার ৩ফুট পানির নীচে রয়েছে।
অপরদিকে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বাংশের এপ্রোচ নির্মাণাধীন রাস্তাটি ৪ ফুট পানির নীচে। শনিবার সকাল থেকেই তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে সকল প্রকার যানবাহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকূল, আনোয়ারপুর, পাতারি, তিওর জালাল, লোহাচুরা, বড়খলা, মাহতাবপুর বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগড়া, ঘাগটিয়া, পাঠানপাড়া, গড়কাটি উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন, রাজাই, শান্তিপুর, চানপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পুরান খালাস, সাদেরখলা, চতুর্ভজ, কাউকান্দি, জামলাবাজ তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জামালগড়, চিকসা, গোবিন্দশ্রী, গাজীপুর, টাকাটুকিয়া দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মারালা, সুলেমানপুর, নায়ানগর, রাজধরপুর, পৈন্ডপ, নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, ভবানীপুর, ইকরামপুর, পাঠাবুকা, লামাগাঁও, দুমাল, ভবানীপুর, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের, বাগলী, দুদের আউটা, ইন্দ্রপুর, মন্দিয়াতা ৬০টি গ্রাম।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে দক্ষিণকূল গ্রামের সকল রাস্তাঘাট ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। গ্রামের সকল পরিবারেই শনিবার সকাল থেকে রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই তারা শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তাদের খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি বর্মণ (৩৫) জানান, তার পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে সকাল ও দুপুরে চিড়া, আর গুড় খেয়ে খাবারের চাহিদা মিটিয়েছে।
আনোয়ারপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিলন তালুকদার জানান, শনিবার সকালে হঠাৎ যাদুকাটা নদী উপচে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাজারের গলিটি ২ ফুট পানির নীচে পড়েছে।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, গ্রামের প্রতিটি উঠান ও বসতঘরে পানি উঠার কারণে গোয়াল ঘরের গরু রাতদিন পানির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এতে করে গবাদিপশু মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন জানান, জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনাটি দুই ফুট পানির নীচে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমরা উপজেলা দুর্যোগ কমিটির জরুরী সভা করেছি। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠছে। বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুতের চলছে।

  • [১]