আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ২২ শ টাকা (৫০ কেজি) চালের বস্তা বিক্রি করছে ২৬’শ টাকা এবং ১২’শ টাকার ৫০ কেজি ওজনের আটার বস্তা বিক্রি করছে ১৫’শ টাকা। এ চিত্র শুধু তাহিরপুর উপজেলা সদর বাজারেই নয়, শ্রীপুর, বাদাঘাট, সুলেমানপুর বাজার সহ
উপজেলার সর্বত্রই একই অবস্থা।
ক্রেতাদের অভিযোগ কয়েকদিনের ব্যবধানে উপজেলার ৯ টি হাওর তলিয়ে যাওয়ায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে প্রতি ৫০ কেজি চালের বস্তায় ৪’শ টাকা, প্রতি ৫০ কেজি আটার বস্তা ৩’শ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহিরপুর বাজারে মাইকিং করে চাল, আটার দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে বিক্রি করার নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশের পর অসাধু চাল ব্যাবসায়ীরা চাল তাদের গুদামে মজুত রেখে চাল নেই বলে অজুহাতে দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশী দাম আদায় করছে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তরং গ্রামের বাসিন্দা তাহিরপুর উপজেলা ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আওয়াল আখঞ্জি বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে মাটিয়ান হাওর তলিয়ে যাওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ১২’শ টাকা মূল্যের আটা ১৫’শ টাকায় বিক্রি করছে। আর ২২’শ টাকার চালের বস্তা ২৬’শ টাকায় বিক্রি করছে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের চাল ক্রেতা সুনীল সরকার বলেন, হাওরগুলো ডুবে যাওযার পর থেকেই চালের বাজার একটু চড়া। আমি এক বস্তা চাল কিনেছি ২৫’শ ৫০ টাকায়।
তাহিরপুর বাজার চাল ব্যাবসায়ী সত্য রঞ্জন দাস বলেন, বাজারে চালের অভাব রয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমার কাছে যা আছে আমি বর্তমান বাজার দরেই বিক্রি করছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাইকিং করিয়েছি যারা বাড়তি দামে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।