তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে জামায়াত নেতার আপন এক ভাতিজা কেন্দ্রে লবিং, আবেদন ও দৌঁড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ শাখার ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জামায়াত নেতার ভাতিজাকে দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না দিতে অনুরোধ জানিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা যায়, নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীর চাচা শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও মাঝহাটি গ্রামের মাও. খাইরুল বাসার বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এবারও তিনি নির্বাচন করার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে তার আপন ভাতিজা জাবির আহমেদ জাবেদ নৌকা প্রতীকের মনোনয়নের জন্য উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে লবিং করেছেন। যা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা বহির্ভূত। স্থানীয় আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ তাকে দলীয় মনোনয়ন না দিতে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ শাখার সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশী জাবেদের আপন চাচা মাও. খাইরুল বাসার জামায়াতের সক্রিয় নেতা। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এবার কৌশল পরিবর্তন করে তার ভাতিজাকে দিয়ে নৌকার মনোনয়নের জন্য আবেদন করিয়েছেন এবং এলাকায় কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক মো. খুরশিদ মিয়া বলেন, মাও. খায়রুল বাসার জামায়াতের একজন চিহ্নিত নেতা, এলাকার সবাই জানে। তার আপন ভাতিজা নৌকার মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদন যেনো কেন্দ্রে প্রেরণ না করা হয় সেজন্য উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত ভাবে অনুরোধ জানিয়েছি।
জাবির আহমদ জাবেদ বলেন, তার চাচা জামায়াতের কোন সদস্য না, তিনি নির্বাচন এলেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের ভোটটা নিজেই দেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জাবেদ জামায়াত নেতার আপন ভাতিজা বলে আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে জেলা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব আমরা।