এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এক মাদ্রাসা ছাত্র ৭ বছরের শিশুকে। এই হত্যাকা- কে রহস্যজনক বলছে পুলিশ। হত্যাকা-ের ঘটনায় শিশুর ফুফা সেজাউল কবির এবং তার বাবা কালা মিয়াকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম বাঁশতলা থেকে ভোর রাতে বস্তায় ভরা ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হতভাগ্য এই শিশুর নাম তোফাজ্জল হোসেন। সে বাঁশতলা গ্রামের জুবেল হোসেনের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বুধবার শিশুটি নিখোঁজ হয়, শুক্রবার ভোর রাতে বসতঘরের বারান্দায় ৮০ হাজার টাকার মুক্তিপণের চিঠি পায় তারা। শনিবার ভোর রাতে বাড়ী’র সামনে বস্তাবর্তী লাশ পায় স্বজনরা। ঘাতকরা শিশুটির একটি চোখ উপড়ে ফেলে এবং একটি পা ভাঙা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে আঘাত করে নৃশংস ভাবে হত্যা করে।
শিশু’র স্বজনরা জানায়, বুধবার রাতে গ্রামের মাঠে ওয়াজ মাহ্ফিল ছিল। বিকালে শিশু তোফাজ্জল ওয়াজ মাহ্ফিলের মাঠে যায়। এরপর গভীর রাত থেকে খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে থানায় জিডি করা হয়। শুক্রবার ভোর রাতে বাড়ী’র বসতঘরে তোফাজ্জলের একজোড়া জুতা ও একটি চিঠি পায় তারা। চিঠিতে লিখা ছিল তোমাদের ছেলে ভাল আছে, টেকেরঘাটে আমার বন্ধু’র বাড়ীতে তাকে রেখে এসেছি। ৮০ হাজার টাকা দিলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাড়ী’র গোয়াল ঘরে রাত ৪ টায় টাকা নিয়ে থাকতে হবে। পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলা হবে। শুক্রবার রাতে ছেলেটির চাচা মাওলানা সালমান হোসেন টাকা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত না আসায় সালমান নামাজ আদায় করার জন্য ওযু পড়তে যায়। এসময় গোয়াল ঘরের সামনে শব্দ শুনা যায়। সালমান এগিয়ে দেখে বস্তাভর্তি তোফাজ্জলের লাশ। পরে প্রতিবেশি তোফাজ্জলের ফুফা সেজাউল কবির ও তার বাবা কালা মিয়াকে সন্হেজনকভাবে পুলিশে দেয় তারা। এদিকে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হবি মিয়া (৪২) তার ছেলে রাসেল মিয়া (২০), জয়নাল মিয়ার ছেলে সালমান মিয়া (২২) ও লোকমান মিয়া (১৮), এবং শিউলী বেগম আটক করে।
তোফাজ্জলের বাবা জুবেল হোসেন জানায়, একই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল কবিরের কাছে ছোট বোন শিউলিকে বিয়ে দিয়েছি তারা। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তার বোনকে যৌতুকের জন্য সেজাউল মারপিঠ করে বাড়ীতে রেখে যায়। এরপর আর নেয় নি। উল্টো তাদেরকে হুমকি ধামকি দিয়েছে। তাদের সন্দেহ সেজাউল ও তার বাবা তার ছেলেকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে রেখেছে।
তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, শিশু তোফাজ্জল খুনের বিষয়টি রহস্যজনক। তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি বলা যাবে না। শিশুটির চোখে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মিজানুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭জন কে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে।