- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তাহিরপুরে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপথগামী যুবসমাজ

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে যুবসমাজ দিন দিন বিপথগামী হয়ে উঠছে। মাদক সেবী ও মাদক বিক্রেতাদের উপর একের পর এক মামলা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না এমন অশুভ প্রবণতা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মাদক সেবন ও বিক্রয় করার অপরাধে ১শ ৫০জন কে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন অপরাধীর কাছ থেকে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯শ ৩৫টাকা জরিমানা করা হয়েছে, আটক করা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪শ ৮৫টাকার বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, বিভিন্ন অপরাধীর নামে মামলা হয়েছে ২শ ৮টি। তবুও এ উপজেলা থেকে নির্মূল করা যাচ্ছে না মাদক ব্যবসায়।
উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় নিত্য নতুন মাদকের থাবায় যুক্ত হচ্ছে স্কুল, কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। গত মঙ্গলবারে মাদক সেবন করার অপরাধে সীমান্তবর্তী লাকমা গ্রামে বাবুল মিয়া, শাজামাল মিয়া ও বরুঙ্গাচড়া গ্রামের সবুজ মিয়া নামে তিন মাদকসেবীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রিট বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে যেসব মাদক বিক্রয়কারী ও সেবনকারীদের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে তারা সাজা খেটে অথবা জামিনে জেল থেকে বের হয়েই আরো বেপরোয়া হয়ে মাদক ব্যবস্থায় জড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলার   
 শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি ও সচেতেন মানুষ মনে করেন,এখনই শক্ত হাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে এ উপজেলার যুবসমাজ। তারা আরো মনে করেন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার করে এবং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে কঠিন আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করলে মাদকদ্রব্য কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকাসহ উপজেলার কয়েকটি স্পটে এখন মাদকের বিশাল ছড়াছড়ি। আর এসব স্পট গুলো হচ্ছে, বাদাঘাট বাজার, তাহিরপুর সদর বাজার, শ্রীপুর বাজার, কাউকান্দি বাজার, চানপুর বাজার, চারাগাও, কলাগাও বাজার, বাগলী বাজার ও আনোয়ারপুর বাজার, লাউড়েরগড় বাজার। বিভিন্ন গ্রামেও মাদক বিক্রেতারা অবাধে মাদক বিক্রি করছে। এসব স্পটে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য। এ উপজেলার স্পটগুলোতে এমন কোনো মাদকদ্রব্য নেই যা পাওয়া যায় না। হেরোইন, ফেনসিডিল, মদ, গাজা, ইয়াবা, নাসির বিড়ি, যৌন উত্তেজক টেবলেটসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। অনেকেই নাম প্রকাশ না করে জানান, এ উপজেলায় মাদকদ্রব্য সরবরাহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
তাহিরপুর সীমান্তের বেশ কয়েকটি স্পট দিয়ে এসব মাদকদ্রব্য আসছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গোপন এমন কিছু স্থান আছে যেখানে ভারত থেকে মাদকের বিরাট চালান এনে মজুদ রাখে মাদক ব্যবসায়ীরা। আর এসব মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে। মাদক নিয়ন্ত্রণকারীরা বেশ প্রভাবশালী ও সক্রিয়। পুলিশেরে হাতে মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ধরা পড়লেও নিয়ন্ত্রণকারীরা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝে মধ্যে পুলিশের হাতে যারা ধরা পড়ে তারা শুধুমাত্র মাদক বহনকারী। আর এসব মাদক বহনকারীদের ছাড়িয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পুলিশের সঙ্গে দেন দরবার শুরু করেন।
এ উপজেলায় বর্তমানে যুবসমাজের ওপর ব্যাপক ভাবে প্রভাব ফেলছে ইয়াবা নামক একটি মাদকদ্রব্য। মোবাইলে মিস কল করলেই বিক্রেতারা ইয়াবা নামক মাদকদ্রব্য মাদকসেবীদেও হাতে তুলে দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন বাজারে নতুন করে এক ধরনের মহিলারাও এসব মাদক বিক্রি করছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বললেন,উপজেলার সচেতন মহল ও তরুণ প্রজন্ম যদি আইনশৃংখলা বাহিনীকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে এ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
সুনামগঞ্জ বিজিবি ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করেছে এবং যাতে কোনো ভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য আসতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবি যথেষ্ট সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • [১]