তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আধাঁরে এক যুবককে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তোলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোশারফ হোসেন তালুকদারকে দায়ী করে ফেসবুকে বক্তব্য প্রচার হয় নিহতের মায়ের। নিহত যুবক উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের মুজিবুর মিয়া ওরফে মুজিবুরের ছেলে সাকিব রহমান (২৫)।
নিহতের বাবা মুজিবুর মিয়া জানালেন, অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত সাদেক তালুকদারের ছেলে মোশাররফ হোসেন তালুকদার (৭০)। অন্য অভিযুক্তরা হলো- মোশাররফের ছোট ভাই মহিনুর (৫০), মোশাহিদ (৪৫), মোশাররফের ছেলে রাজু (৩২), মোশাররফের ফুফাতো ভাই নুরুজ আলী (৫৫), তার ছেলে কাহার মিয়া (৩৮) ও একই গ্রামের রাফি (২৯)।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১১ টায় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।
এদিকে তাহিরপুরে আলোচিত সাকিব হত্যাকা-ের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিহতের পিতা মজিবুর রহমান (ভাটি মজিবুর) তাহিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ঘাগটিয়া গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন তালুকদার (৫৮), মহিনুর তালুকদার (৫৩), মোশাহিদ তালুকদার (৫৫), একই গ্রামের মহিনুর তালুকদারের ছেলে রফি তালুকদার (২৯), মোশারফ তালুকদারের ছেলে মোনায়েম হোসেন তালুকদার রাজু (৩৪), মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে নুরুজ আলী (৫০), নরুজ আলীর ছেলে কাহার (২৬), বাহার (২২), ছামাদ তালুকদারের ছেলে পটল তালুকদার (৩২), রাজা মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (৫৮)। এছাড়া আরও ৩/৪ জনকে এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
নিহতের পিতা মুজিবুর মিয়া (৪৮) জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘাগটিয়া গ্রামের রাফি, রাজ, নুরুজ আলী ও তার ছেলে কাহার মিয়া, মহিনুর, মোশাহিদসহ অন্তত ১০-১২ জন মিলে আমার ছেলেকে উল্লাসের মোড় থেকে জোরপূর্বক ধরে মোশাররফের বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে তারা সবাই মিলে আমার ছেলেকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে ও নক উপড়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে আমি রাত একটার দিকে মোশাররফের বাড়িতে গেলে তারা আমার উপরও আক্রমণ করে। পরে আত্মরক্ষার্থে আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ আমাকে জানায়, আমার ছেলেকে তাহিরপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে জানলাম আমার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আছে। ওখানে (সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে) গিয়েও ছেলের কোনো খোঁজ পেলাম না। পরে শুনলাম সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। পরে সিলেটে গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর বিষয়টি বাড়িতে জানাই।
তিনি আরো জানান, দুইবছর আগেও মোশাররফের লোকজন আমার ঘরবাড়ি পেট্রোল দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছিল। আমার ছেলেকে খুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। এখন আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মোশারফ হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গতরাত একটার দিকে আমার বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে ৬-৭ জনের একটি দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। তখন তারা বসতঘরের মূল ফটক ভাঙার চেষ্টা করে। পরে বাড়ির মানুষের চিৎকারে শুনে আশেপাশের মানুষ এসে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এরপরের ঘটনা আমার পরিবারের কারও জানা নেই।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বললেন, সাকিব রহমান নামের এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে শুনেছি আমি। এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে।
হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন জানান, এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তবে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের জোর চেষ্টা চলছে।