- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তাহিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরও ১ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে রসুলপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অরুনা খাতুন (৪৫) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। অরুনা খাতুন রসুলপুর গ্রামের কুমেদ আলীর স্ত্রী।
জানা যায়, সোমবার বিকেল পৌণে ৪টায় রসুলপুর গ্রামের দু’পক্ষের সংঘর্ষে কৃষক ফরিদ মিয়া (২৬) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। রসুলপুর গ্রামের এ দু’টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোমবার ও মঙ্গলবার এ দু’দিনে উভয়পক্ষের লোকজন শতাধিক গৃহস্থালির গরু ও ৩০টি বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও খাবারের প্লেটসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদি লুটপাট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে রসুলপুর গ্রামটি নারীপুরুষ শূন্য হয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রসুলপুর গ্রামের নিহত কৃষক ফরিদ মিয়ার আপন ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে রসুলপুর গ্রামের ৩৯ জনকে আসামী করে তাহিরপুর থানায় মামলা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
অপরদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসারত আহত অরুনা খাতুনের মৃত্যুর সংবাদটি মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাতে পেঁৗছলে গ্রামের উভয় পক্ষের লোকজন বসতবাড়ির মালামাল ও শতাধিক গৃহস্থালির গরু লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রসুলপুর গ্রামের নবী হোসেন ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেয়। নবী হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করে রসুলপুর গ্রামের রশিদ আলী ও রজব আলী পক্ষদ্বয়। রসুলপুর গ্রামের আবুল বাদশার পক্ষের লোকজন গ্রামের ইউপি সদস্য প্রার্থী নবী হোসেন এর বিপক্ষে কাজ করে। এ থেকেই নবী হোসেন, রাশিদ আলী ও রজব আলী পক্ষদ্বয় আবুল বাদশার পক্ষের লোকজনের সাথে বারবার ঝগড়া বিবাদ করে আসছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, রসুলপুর গ্রামের দু’টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোমবার ও মঙ্গলবার এ দু’দিনে উভয়পক্ষের লোকজন শতাধিক গৃহস্থালির গরু ও ৩০টি বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও খাবারের প্লেটসহ যাতবতীয় সরঞ্জামাদি লুটপাট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে রসুলপুর গ্রামে নারীপুরুষ শূন্য হয়ে রয়েছে।
তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, রসুলপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের নারী পুরুষ দু’জন নিহত হয়েছে। নিহত কৃষক ফরিদ মিয়ার পক্ষে তার ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে ৩৯ জনকে আসামী করে মামলা করেছে। অপর নারী অরুনা খাতুন নিহতের ঘটনায় এখনো তার পক্ষ থেকে কোন মামলা নিয়ে আসেনি। বর্তমানে রসুল গ্রামে থানা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • [১]