স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী এই তিনটি শুল্কস্টেশন গত ৩০ জুলাই থেকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে। তবে সীমান্তের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে চোরাই পথে আসছে কয়লা ও চুনাপাথর। কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীকারকদের অভিযোগ এভাবে চোরাইপথে কয়লা ও চুনাপাথর ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বৈধপথে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী করতে আমদানীকারকরা বিমুখ হবেন। সম্প্রতি ওই চোরাইপথে কয়লা ও চুনাপাথরের সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও হেরোইন ।
জানা যায়, উপজেলার সীমান্তের লাউড়েরগড় থেকে বাগলী পর্যন্ত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই আসছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ,গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইন।
সম্প্রতি তাহিরপুর সীমান্তের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সীমান্তের লাউড়েরগড়, সাহিদাবাদ, বারেকটিলা, চানপুর, বুরঙ্গাচরা, চারাগাঁও, কলাগাঁও, বাঁশতলা, লালঘাট, লামাকাটা ও বাগলীর কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় চোরাই কয়লা ও চুনাপাথর আসছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পরেই ৪-৫’শ শ্রমিক চোরাই কয়লা আনার জন্য সীমান্তরেখা অতিক্রম করে ওপারে ঢুকে পড়ে এবং ভোররাতে চোরাই কয়লা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।
সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির সদস্যরা মাঝে-মধ্যে লোক দেখানো কয়েকটি চোরাচালান আটক করলেও মূল চোরাকারবারীরা
রহস্যজনক কারণে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে টেকেরঘাট সীমান্তে বুরুঙ্গাচরা, চারাগাঁও, লালঘাট, বাঁশতলা, কলাগাঁও, নয়াছড়া ও বাগলী সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত আসছে ভারতীয় চোরাই কয়লা।
স্থানীয় একাধিক লোকজন জানিয়েছেন অবৈধভাবে চোরাই পথে আনা কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছেন। চাঁদা আদায়ের ব্যবস্থা তারাই করে দেন এবং মোটা অংকের ভাগ নেন। এসবের সাথে এলাকার দুইজন সাবেক ইউপি সদস্যও জড়িত রয়েছে।
চোরাইপথে সীমান্তে জমাটকৃত কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন করে ইঞ্জিন চালিত ট্রলিযোগে নদীর পারে আনতে প্রতি ট্রলি থেকে ২ থেকে ৩’শ , অনেক সময় ৪-৫শ’ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। সপ্তাহে ৩/৪দিন এ সমস্ত জমাকৃত কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন করা হয়। দৈনিক প্রায় ২ হাজার ট্রলি থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। আদায়কৃত চাঁদার টাকা বণ্টনের সাথে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকরাও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ল চাঁদার টাকা আদায় করেন সীমান্ত এলাকাতে বিজিবির সোর্স হিসাবে পরিচিত কলাগাঁও গ্রামের তুতা মিয়া ও চারাগাঁও গ্রামের শফিকুল ইসলাম, চানপুর গ্রামের বাক্কার মিয়া। তবে অভিযোগ অস্বীকার ও মিথ্যা দাবি করে তারা বলেছেন, এলাকার কিছু লোক অহেতুক তাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এলাকার এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে চোরাই কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীর সাথে আওয়ামী লীগের নেতারা জড়িত। চোরাই কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী করা হয় এটা সীমান্তের ছোট-বড় সবাই জানেন। চোরাই কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীতে আদায়কৃত চাঁদার টাকার ভাগ পুলিশ, বিজিবি, আদায়কারী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের দেয়া হয় বলে আমরা শুনি।’
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারকগ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন,‘এভাবে চোরাইপথে ভারত থেকে কয়লা ও চুনাপাথর আসতে থাকলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ব্যবসার উৎসাহ হারাবে।
এ ব্যাপারে বিজিবির ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন,‘ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাইপথে যাতে কোন কিছু প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য বিজিবি সদস্যরা এলার্ট রয়েছে। তবে চোরাচালঅনের পরিমাণ বিগত সময়ের চাইতে অনেকটা কমে এসেছে।’