- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তিনদিন ধরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিনদিন ধরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ জানিয়েছে, সুরমা ও যাদুকাটা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘন্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। যার ফলে সুনামগঞ্জ জেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত মেঘালয়ের অত্যাধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি নদী যাদুকাটা ও সুরমা নদী উপচে পানি এসে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর-বালিজুড়ি অংশের ৫০ মিটার সড়ক ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা সড়কের ১০০ মিটার সড়ক প্রায় ৪ ফুট পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। ফলে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পাকা সড়কের উপর দিয়ে নৌকাযোগে পারাপার হচ্ছে চলাচলকারী লোকজন।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের কারণে গত দু’দিন ধরে নি¤œ আয়ের লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এ কারণে তাহিরপুরের সঙ্গে জেলা সদরসহ সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে লকডাউন খুলে দেয়ায় টাঙ্গুয়া হাওরে আগত পর্যটকরাও পড়েছেন নানামুখী বিপাকে। তারা স্থানে স্থানে আটকা পড়ে বিকল্প পরিবহন নৌকা ও অটোরিক্সা করে তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসছে।
যাদুকাটা নদী পাহাড়ী ঢলের পানিতে উপচে থাকার কারণে নদীতে বালু উত্তোলনকারী প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। হাওরপাড়ের জেলেরাও ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘনঘন আকস্মিক বজ্রপাতের কারণে মাছ ধরতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা মিলন তালুকদার বলেন, যাদুকাটা ও রক্তি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বদিকের এপ্রোচের রাস্তাটি ৪ ফুট পানির নীচে রয়েছে। এ অবস্থায় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী লোকজন নৌকা যোগে পারাপার হচ্ছে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা গ্রামের আসাদুজ্জামান বলেন, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ারখলা ১০০ মিটার রাস্তাটি প্রায় ৪ ফুট পানির নীচে রয়েছে। নৌকাযোগে লোকজন পারাপার করছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, সুরমা ও যাদুকাটা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে যাদুকাটা ও রক্তি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আনোয়ারপুর রাস্তাটি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। গত তিন’দিন ধরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

  • [১]