স্টাফ রিপোর্টার
‘এই মাসে বাংলাদেশের জন্ম, মার্চের ৭ তারিখ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের কর্তৃত্ব নেন, সংগ্রামও শুরু হয় এই মাসেই। এর সাথে হাবীবের সম্পর্ক আছে-কারণ কলম যোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন। উনি স্বাধীন বাংলাদেশের কলমযোদ্ধা। সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে এটা আমি মনে করি না। পীর হাবিব রাজাকারের পক্ষে ছিলেন না, পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না, তিনি দুনীতিবাজদের পক্ষে ছিলেন না, শোষকের পক্ষে ছিলেন না। ছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে। প্রখ্যাত সাংবাদিক হয়েও তাঁর পক্ষ ছিলো, এই পক্ষ থাকা দোষের নয়। আমারও পক্ষ আছে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের। এই পক্ষে কোন আপোষ করা যায় না। এই পক্ষ থাকা দোষের নয়।’
শুক্রবার বিকালে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বরেণ্য সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের নাগরিক শোকসভায় এসব কথা বলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি।
তিনি বলেন, তাঁর সাংবাদিকতার যাত্রা এমন একটা সময়ে যখন সামরিকতন্ত্র ও সাম্প্রদতায়িকতার দুই জমজ শত্রু বাংলাদেশকে দখল করে বিপর্যয়ের দিকে ঠিলে দিচ্ছিল। আশির দশকে পীর হাবিবকে কারাভোগ করতে হয়। তাই সামরিক, রাজাকার, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও রাজাকারের বিরোধী পক্ষে ছিলেন তিনি। তাঁর লেখা পড়লে এই পক্ষপাত ফুঁটে উঠে। ১৯৯১ সালের পর থেকে তিনি রাজনীতি নিয়ে লেখা শুরু করেন। উনি দু’হাত খুলে লিখতেন। দু হাত খুলে লিখতে সাহস লাগে, বুকের পাঠা লাগে। অনেকেই বন্দুক হাতে নিতে পারেন, কিন্তু গুলি বেরোয় না। অনেকের হাতে কলম থাকে, কিন্তু কলম দিয়ে লেখা বেরোয় না। পীর হাবিব সেই অর্থে কলম যোদ্ধা। তাঁর কলম দিয়ে আগুনের ফুলকি বেরোত। শোষকের দুর্গে কামান দাগতো। উনি কলম নিয়ে আর আমি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সংগ্রাম করেছি। গণমাধ্যম ও রাজনীতির মধ্যে একটা ঝগড়া ফ্যাসাদ আছে। কারণ গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের আয়না। এটা রাষ্ট্র ও রাজনীতির জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে চায়। তাই গণমাধ্যম কর্মীর সাথে রাজনৈতিক কর্মীর একটা অম্ল মধুর সম্পর্ক আছে। এই হাত ধরছি, এই হাত ছেড়ে দিচ্ছি। যারা রাষ্ট্র ও সরকার চালায় বা যারা এমপি মন্ত্রী হয় তাদের সমালোচনা সহ্য হয় না। তারা গণমাধ্যম কর্মীদের ভয় পায়। খুব কম রাজনীতিক আছেন, খুব কম মন্ত্রী আছেন যারা গণমাধ্যম কর্মীদের বুকে জড়িয়ে ধরার সাহস শক্তি রাখে। ন্যায্য কথা বলার জন্য হাবিব সুনাম কুড়িয়েছেন। তাই আজ আপনারা এসেছের তাঁর স্মরণ উৎসবে, কিছু সাহস সংগ্রহ করতে। চলমান সমাজের বিভিন্ন অন্যায় আটকানোর জন্য সাহস সংগ্রহ করে আমরা ঘরে ফিরে যাবো। হয়তো আমরা হাবীবের মতো পারবো না, কিন্তু চেষ্টা করতে পারি পীর হাবিবের মতো অন্যায় দুর্নীতি, শোষন, ও দলবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, পীর হাবীবের লেখার মধ্যে একটা ভিন্নতা আছে। তিনি গল্প বলার ঢঙে লিখতেন- তাতে আবেগ মিশ্রিত থাকতো। এজন্য তাঁর লেখা দ্রুত গ্রহণযোগ্য হতো।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের ছায়ায় গুন্ডামী চলে না, অর্থনীতির ঘরে দুর্নীতিবাজের সিন্ডিকেট যায় না। আমরা রাজনীতি ও আদর্শের অংক মিলাতে পারি না। ভাষা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ভেতরে রাজাকার ও তেঁতুল হুজুর যায় না। তাদেরকে বিতাড়িত করতে পীর হাবিবের লেখা আমাদের সাথে থাকবে।