- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তিন শ্রেণিকক্ষই শিক্ষার্থী শূন্য

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়টিতে পুুরোদমে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলার কথা। কিন্তু প্রথম শ্রেণির কক্ষে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানো হচ্ছে। দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষ পুরোটাই ফাঁকা। আবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থীকে দেখা গেল। আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ পুরো ফাঁকা। বৃহস্পতিবার এমন চিত্র দেখা যায় ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে ১৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৬ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১৩ জনসহ মোট ৯০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক বিদ্যালয়ে নেই। সহকারী শিক্ষক সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তারকে শ্রেণিকক্ষেই পাওয়া গেল। তিনি একই সাথে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। আর দ্বিতীয় শ্রেণি ফাঁকা থাকায় শ্রেণি শিক্ষক লুৎফুন্নাহার লাভনীকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাওয়া গেল। সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কানে না শোনার রোগে ভোগছেন। তাই তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা তাঁকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করে উত্তর পায় না। ফলে তাঁকে ও আরেক সহকারী শিক্ষক নার্গিস আক্তারকে বারান্দায় পায়চারী করতে গেলো।


সহকারী শিক্ষক লুৎফুন্নাহার লাভনী বলেন, ‘প্রত্যেক দিনই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকে। আজকে একজন এসেছিল। তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের আনতে পাঠানো হয়েছে। সে শিক্ষার্থীদের গিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেনি।’
সহকারী শিক্ষক নার্গিস আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আশপাশে সামাজিক আচার অনুষ্ঠান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আসেনি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এতো কম হওয়ার কথা না। ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ঢাকায় চলে গেছে। আর কয়েকজনকে মাদ্রাসায় দিয়েছে (অভিভাবকেরা)।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘কেন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেনি তা দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হবে।’

  • [১]