- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

তির–ধনুকে সোনালি দিন

সু.খবর ডেস্ক
একটি করে সোনার পদক নিশ্চিত হচ্ছে, আর ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বলে চিৎকার ভেসে আসছে। কেউ একজন জাতীয় পতাকা নিয়ে ঢুকে পড়লেন মাঠে। লাল-সবুজের পতাকা হাতে আর্চাররা সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে কাল আন্তর্জাতিক আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ১৭টি দেশের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আসেনি পাকিস্তান, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাকি ১৪ দেশের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলতে শুধুই ইরাক ও মালয়েশিয়া। এদের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশ একক, দলগত ও মিশ্র ইভেন্টে ৯টির মধ্যে জিতেছে ৬টি সোনা।

রিকার্ভে মেয়েদের এককে সোনা জিতেছে হীরা মনি। ভুটানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে দলগত রিকার্ভ পুরুষে সোনা জিতেছেন তামিমুল ইসলাম, রোমান সানা ও সানোয়ার হোসেন। পুরুষদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে সোনা বাংলাদেশের নাজমুল হুদা, মিলন মোল্লা ও আবুল কাশেমের। এই তিনজন মালয়েশিয়াকে ২১৪-২০৭ পয়েন্টে হারিয়ে সোনার পদক গলায় তোলেন।

রিকার্ভ বোয়ের মেয়েদের দলগত সোনা জিতেছেন শ্যামলী রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার। এই ত্রয়ী ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়েছে নেপালকে।

রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে বিউটি ও রোমান সানা ভুটানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে জিতেছেন সোনা।

কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত সোনা জিতেছেন সুস্মিতা বণিক ও আবুল কাশেম মামুন। বাংলাদেশের এই জুটি ১৫০-১৪২ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন ইরাকের ফাতিমা ও ইশাখ জুটিকে।

হীরার সাফল্যের দিনে সোনা জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেননি বন্যা আক্তার। মেয়েদের কম্পাউন্ড এককের ফাইনালে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসাদানির কাছে হেরেছেন ১৩৫-১৩৩ পয়েন্টে।

বন্যার তুলনায় যথেষ্ট শক্ত প্রতিপক্ষ ফাতিমা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর আগে ২টি সোনা, ২টি রুপা ও ১টি ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাগদাদের মেয়ে। ২০১৪ বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা জিতেছিলেন। সেই তুলনায় বন্যা অনেক পিছিয়ে অভিজ্ঞতায়। এটাই বন্যার প্রথম আন্তর্জাতিক আসর। তারপরও দারুণ লড়েছেন। প্রথমবার রুপা জিতে মোটেও মন খারাপ হয়নি ফরিদপুরের মেয়ের, ‘এই প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম। প্রথমবারে এই পর্যন্ত আসতে পেরেই খুশি।’

বাংলাদেশ আনসার থেকে শুধু মাসিক ভাতা পান বন্যা। এখনো স্থায়ী চাকরি হয়নি। আশায় বুক বেঁধে আছেন, পদক জয়ের পর একটা স্থায়ী চাকরি হবে, ‘শুনেছি আমাকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। চাকরিটাও হয়তো স্থায়ী হতে পারে। তাহলে মুদি দোকানদার বাবাকে আমি আরেকটু সাহায্য করতে পারব।’

রিকার্ভে ব্যক্তিগত ইভেন্টে না পাওয়ার হতাশা কিছুটা হলেও দলীয় সাফল্য দিয়ে ঘোচানোর তৃপ্তি আছে তামিমুলের। ২০১৫ সালে সামোয়া যুব কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী তিরন্দাজ বলেন, ‘ব্যক্তিগত ইভেন্টে পারিনি। শারীরিক অসুস্থতা ছিল। যখন একটু সুস্থ হলাম, তখন মনে হলো দলীয় ইভেন্ট তো আছে; এটা কেন পারব না? দেশের মাটিতে খেলা, আমরা তিনজন ভালোভাবে নিজেদের কাজগুলো করতে পেরেছি। এ কারণেই সাফল্য এসেছে।’

  • [১]