শহীদ নূর আহমেদ
দোয়ারাবাজার থেকে ফিরে,
সুরমা নদীর তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে দোয়ারবাজার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম। ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বহু বসতঘর, বাজারের দোকানপাট, পাকা সড়ক, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভিটাবাড়ি হারিয়ে পথে বসেছেন গ্রামগুলোর অনেক পরিবার। নদী ভাঙ্গন রোধে তড়িৎ গতিতে উদ্যোগ না নিলে দোয়ারাবাজার উপজেলার খেয়াঘাট এলাকার সরকারি অফিস, দোকানঘর ও আশপাশের গ্রামের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হতে পারে বলে
আশংঙ্কা জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এলাকাবাসীর উদ্যোগে দফায় দফায় ভাঙ্গন রোধে সভা সমাবেশ, মানববন্ধন করলেও সুফল মেলেনি এখনও। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। ভাঙ্গন এলাকার জরিপ করে একটি প্রকল্পের ডিজাইন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, প্রকল্পের অনুমোধন হলে কাজ শুরু করা হবে বলে শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন পাউবো কতৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুরমা নদীর তীরবর্তী উপজেলার আমবাড়ি, আজমপুর, শরিফপুর, মাছিমপুর, বুজনা, মাঝেরগাঁও, মংলারগাঁও, হরিপুর, কাঞ্চনপুর, বেতুরা, লক্ষিবাউরসহ অসংখ্য গ্রাম ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের উপজেলা পরিষদের সামনের এলাকা ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে থানা সড়কের একাংশ, খেয়াঘাট, খেয়াঘাট এলাকার ব্যবসায়ীদের দোকানপাট।
মাছিমপুর থেকে মাঝেরগাঁও এলাকার নদীপাড়ের ভাঙ্গন আরো চরম। নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে মাঝের গাঁও মসজিদসহ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। নদীর গহ্বরে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। র্সবস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন নদীতীরবর্তী সহ¯্রাধিক মানুষ।
মাসুক মিয়া নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আমাদের এলাকার শত শত মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এলাকার অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
নদীর পানি যতই কমছে ভাঙ্গনের প্রবণতা আরো বাড়ছে। ভাঙ্গন রোধে এখনই উদ্যোগ না নিলে ক্ষতির পরিমাণ বর্ণনাতীত হবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।
দোয়ারাবাজারের নদীগর্ভে বিলীন হওয়া দোকানকোঠার মালিক সেলুন ব্যবসায়ী রশম দাস, দর্জি বকুল দাস, চা বিক্রেতা সামছুল ইসলাম ও বাদশাহসহ একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান আজ নদীর পেটে। অবশিষ্ট যে দোকানগুলো আছে তাও ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে । যে ভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তা রোধ না করতে পারলে হুমকির মুখে পড়বে খেয়াঘাট এলাকা।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন, সুরমা নদীর ভাঙ্গন দোয়ারাবাজার উপজেলার অন্যতম সমস্যা। বছর খানেক যাবৎ নদীর ভাঙ্গন মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে গেছে। ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্যে ১ বছর পুর্বে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনও তাঁর অনুমোদন আসেনি। সাময়িক ভাঙ্গন রোধে আমরা উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ দিয়ে তিন দফায় বস্তা দিয়ে কাজ করেছি। তাই ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছি।
পানি উন্নয়ন র্বোডের এএসডি রঞ্জন কুমার দাস বলেন, দোয়ারাবাজার এলাকার ভাঙ্গন রোধের জন্যে বিভিন্ন মহল থেকে তাগিদ আসছে। আমরা ইতোমধ্যে ভাঙ্গন এলাকার জরিপ করে একটি প্রকল্পের ডিজাইন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। প্রকল্পের অনুমোদন পেলে নদীর তীর প্রতিরক্ষামুলক ব্লক বসানোর কাজ শুরু করা হবে।