- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে একযুগ ধরে ছাত্রদলের কমিটি নেই

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রায় ১৩ বছর ধরে কমিটি নেই উপজেলা ছাত্রদলের। এতে ব্যহত হচ্ছে এই ছাত্র সংগঠনের কর্মকান্ড। এর ফলে এ উপজেলায় রাজনীতিতে বেরিয়ে আসছে না নতুন মুখ।
আর যারা মামলা হামলার শিকার হয়েও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন তারা ভোগছেন দলীয় পরিচয়হীনতায়। ১৩ বছর ধরে ছাত্রদল নেতা ছাড়া পরিচয় দেওয়ার মতো কোনো পদ পদবি নেই তাদের কারো।
এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে ফারুক আহমদ ও আনছার উদ্দিন সমর্থিত অনেক ছাত্র নেতাদের মাঝে। ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই বলেন, ‘জেলা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উচিৎ সৎ, যোগ্য ও ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন দেওয়া । নতুবা এর ফল খুব একটা সুখকর নাও হতে পারে।’
জানা যায়, ২০০২ সালে অক্টোবর মাসে কোনো রকমের সম্মেলন ছাড়াই ইকবাল হোসেনকে সভাপতি এবং আবুল কাশেমকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটির অনুমোদন দেন     জেলা ছাত্রদলের নেতারা। দুই বছর পর এ কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে ২০০৪ সালে নতুন কমিটি দেওয়ার কথা থাকলেও ১৩ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে বিলুপ্ত হয়নি সেই কমিটি। ইতোমধ্যে আগের ছাত্র নেতারা হারিয়েছেন তাদের ছাত্রত্ব, বিয়ে করে কেউ কেউ হয়েছেন একাধিক সন্তানের জনকও। কেউ কেউ আবার ছাত্রদল ছেড়ে জেলা রাজনীতির খাতায় নাম লিখিয়েছেন। ১৩ বছর আগের দেওয়া সেই হ-য-ব-র-ল কমিটির সভাপতি ইকবাল হোসেন বর্তমানে সক্রিয়ভাবে জেলার রাজনীতি করছেন । সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিয়ে করে তিনিও সংসারী হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগেই। দুই সন্তানের জনকও তিনি। তবুও তিনি এখনো উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
১৩ বছর আগের ছাত্রদল কমিটির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ এখন আর ছাত্র নন, তিনি এখন প্রবাসী। এভাবেই বিভিন্ন পদ পদবি নিয়ে ব্যবসায়ী, প্রবাসী হয়ে আছেন অনেকেই।
এব্যপারে উপজেলা ছাত্রদল নেতা জোনাক আহমদ ও নাসির আহমদ বলেন, ‘অনেকদিন হলো আমরা ছাত্রদলের রাজনীতি করছি। এতদিন পার করে এসেও আমাদের পরিচয় দিতে হয় আমরা ছাত্রদলের রাজনীতি করি। আমরা ছাত্রদল নেতা। এর বেশি পরিচয় দেওয়ার মতো কিছু আমাদের নেই। কমিটিহীন থাকায় আমাদের কর্মকান্ডও চোখে পড়ে না। তাই জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের পরিচয়ের স্বার্থে হলেও যেন দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা হয়।’
ছাত্রদলের আরেক নেতা মামুনুর রশিদ মামুন বলেন,‘আনছার ভাইয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতি করে আসছি। কিন্তু কমিটি না দেওয়ায় আমরা হতাশ। ’
ফারুক আহমদ গ্রুপের ছাত্রদল নেতা মানছুর আহমদ বলেন, ‘জিয়ার আদর্শের রাজনীতি আমাদের রক্তের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। দীর্ঘদিন থেকে মাঠে থেকে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছি। কারাবরণ করেছি। কিন্তু ১৩ বছর ধরে আমরা কোনো পদবি পাই নি। এটা উপজেলার সকল ছাত্র নেতাদের জন্য হতাশার। রাজপথে আমাদের আরো সক্রিয় করতে নামে মাত্র পুরোনো সেই কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি দেওয়া আবশ্যক। ’
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন,‘শুধুমাত্র দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায়ই নয় সমস্ত জেলায়ই একই অবস্থা। কেন্দ্র থেকে জেলার নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলে সেই কমিটিই উপজেলা কমিটি ঘোষণা করবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সারাদেশে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলে ২০টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সুনামগঞ্জের কমিটিও ঘোষণা করা হবে।’ তবে কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে জানতে চাইলে এটা কেন্দ্রের বিষয় বলে জানান তিনি।

  • [১]