ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
সুনামগঞ্জের সকল উপজেলার প্রায় সব হাওর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের দাবির মুখে ওএমএসের চাল বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। জেলার প্রতিটি উপজেলায় ডিলার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রতিজনে ১৫ টাকা কেজি মূল্যে ৫ কেজি চাল ও ১৭ টাকা কেজি মূল্যে ৫ কেজি আটা বিক্রির শুরু হয়েছে। সপ্তাহে তিনদিন ২০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে খোলা বাজারে এ চাল বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে ডিলারদের প্রতি।
এতে করে কিছু মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ থেকে যাচ্ছে অধিকাংশের মাঝে। ডিলার, সাব ডিলারদের চাল আটা বিক্রির নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহের তিনদিনই শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা যায়। নির্ধারিত ২০০ জন ছাড়া আর কাউকে দেয়ার নির্দেশ না থাকায় বাকীদের ফিরতে হয় খালি হাতে। এজন্য কেউ কেউ ক্ষোভ ঝাড়েন ডিলারদের উপর। এ অবস্থায় স্বল্পমূল্যের এ চালের বরাদ্দ আরো বাড়ানোর দাবি করেন সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের চাল ও আটা বিক্রির বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে- চাল নিতে আসা ধান হারা শত শত সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন। সপ্তাহে ৩টন চাল ও ৩টন আটা পান ডিলাররা। শত মানুষের চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না তাদের। ডিলাররা জানান- বহুসংখ্যক মানুষের চাহিদা মেটাতে হলে প্রচুর চাল দিতে হবে আমাদের।
সাধারণ জনগণ এ বছর ধান হারিয়ে দিশেহারা। টানা তিন বছর ধান না পেয়ে কৃষকেরা স্বর্বশান্ত। কীভাবে কাটাবে সারা বছর তা নিয়ে ভাবছেন। চালের দাম যে দিকেই কম পাচ্ছেন কিনতে চাইছেন তারা। তাই মান জাত না খুঁজে যারা কখনো বাজারের চাল কিনেই খাননি তাদেরকেও লাইনে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে।
এ ব্যপারে কথা হয় শওকত আলী (হাতাই মিয়া), নূরুল ইসলাম ও আবদুল জব্বার নামের তিন জন সাধারণ মানুষের সাথে। তারা বলেন- ‘দুইশ জন কৃষকের মাঝে চাল বিক্রি করে বাকীদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লাইনে শত শত মানুষ দাঁড়াচ্ছে। আমাদের বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ আরো বাড়ানো হোক।’
পাগলাবাজারের ওএমএসের চাল আটা বিক্রির ডিলার রাসেল এন্ড এমরান ট্রেডার্সের পরিচালক রাসেল আহমদ এবং এমরান হোসেন জানান- ‘মানুষের মাঝে চাল আটার প্রচুর চাহিদা। শত শত মানুষ আসে চাল আটার জন্য। প্রত্যেককে দিতে পারি না। নির্দেশ অনুযায়ী দুইশ জনকে দেওয়ার পর আমাদের বন্ধ করে দিতে হয়। তখন মানুষ আমাদের উপর রাগ করে। গালাগালও দেয়।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুমানা আফরোজ বলেন,‘চালের বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য আমরা চেষ্টা করছি। উপর লেভেলে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। বরাদ্দ বাড়লেই ডিলারদের বেশি চাল দেবো আমরা।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর করিব বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের স্বার্থে কাজ করছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলাপ করেছি। কীভাবে চাল বৃদ্ধি করা যায় তাই নিয়ে কাজ করছি।