- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে জোড়া খুন ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রবিবার দুপুর ১২ টায় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়কলস পয়েন্টে জয়কলস গ্রামের নিহত দিপু বিশ^াস ও জামিনী বিশ^াসের পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জয়কলস গ্রামের নিহত জামিনী বিশ^াসের স্ত্রী ছায়ারানী বিশ^াস, নিহত দিপু বিশ^াসের স্ত্রী বেবি রানী বিশ^াস, ছাতক কচুরগাঁও গ্রামের নিতাই বিশ^াস, নিহতের ভাই দিলু বিশ^াস, রাজেন্দ্র বিশ^াস, নিহত যামিনী বিশ^াসের ছেলে রাজেন্দ্র বিশ^াস, ভাতিজা পিন্টু বিশ^াস, গ্রামের ঝন্টু বিশ^াস, হরলাল বিশ^াস, রাজেন্দ্র কান্তি সরকার, সুভল বিশ^াস, লাবন্য বিশ^াস, কমলা বিশ^াস, পরশ রানী বিশ^াস, উজানীগাঁও গ্রামের সালেহ আহমদ লিটন, রাকেশ বিশ^াস, অতুল বিশ^াস, সুচিত্রা বিশ^াস, রবি বিশ^াস, শুকলা বিশ^াস, মিন্টু বিশ^াস সহ শতাধিক স্থানীয় লোকজন।
মানববন্ধনে নিহত দিপু বিশ^াসের স্ত্রী বেবী রাণী বিশ^াস, ভাই দিলু বিশ^াস, নিহত জামিনী বিশ^াসের ছেলে রাজেন্দ্র বিশ^াস ও জামিনী বিশ^াসের স্ত্রী ছায়া রাণী বিশ^াস বলেন, নিহত দিপু বিশ^াস ও জামিনী বিশ^াসের প্রকৃত খুনী জয়কলস গ্রামের শৈলেন্দ্র তালুকদারের ছেলে নিউটন তালুকদার, কৃষ্ণমাস্য দাসের ছেলে বাবুল মাস্য দাস, মৃত রমন বিশ^াসের ছেলে রন বিশ^াস, হরি দাস তালুকারের ছেলে মিলু তালুকদার বাঘা ও বিনয় গোস্বামীর ছেলে গৌরপদ গোস্বামী। এ ঘটনায় পুলিশ রন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করলেও এখনো পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে আরও চারজন। ঘটনার পর থেকেই এই চারজন পলাতক রয়েছেন। তবে পুলিশ একজন আসামী রন বিশ^াসকে ধরলেও নিহত দিপু বিশ^াস ও জামিনী বিশ^াসের অন্যান্য খুনিদেরকে আড়াল করতে চাইছে।
নিহত দিপু বিশ্বাসের স্ত্রী বেবী রানী বিশ্বাস আরো বলেন, ঘটনার দিন রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমাকে থানায় যেতে বলে। আমি থানায় গেলে তারা জানান, একটি কাগজে স্বাক্ষর না করলে নিহত দিপু বিশ্বাস (আমার স্বামী) এর লাশ ময়না তদন্ত করা যাবে না। এ কথার পরেই আমি উল্লেখিত ৫ জনের নামে মামলার এজাহারে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাগজে স্বাক্ষর করি। পরে জানতে পারি পুলিশ একজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যরা ৫ জনের নাম উল্লেখ করলেও তারা আমাদের কথা শুনেননি। পরে দিলু বিশ্বাস বাদী হয়ে আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল আদালতে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এই মামলারও কোন কার্যক্রম নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রী সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি কাজী মুক্তাদীর হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, এই হত্যাকা-ের খুনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে খুনের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সময় সে একা ছিল এটাও বলেছে। এরপরও মামলাটি অধিকতর তদন্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় প্রতিপক্ষের ছুড়িকাঘাতে জয়কলস গ্রামের মৃত লাল মোহন বিশ^াসের ছেলে দিপু বিশ^াস (৪০) ও মৃত কানাই লাল বিশ^াসের ছেলে জামিনী বিশ^াস গুরুতর আহত হন। সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার দিপু বিশ^াসকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ঘটনার ১ দিন পর জামিনী বিশ^াস সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

  • [১]